সূরা 69
আল হাক্কা
الحَاقَّةِ
Al-Haqqah · মাক্কী · 52 আয়াত
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
- 1
ٱلْحَآقَّةُ
Al haaaqqah
সে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা,
সূরা সংক্রান্ত আলোচনা: [১] الحاقة শব্দ দ্বারা কিয়ামতকে বুঝানো হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর, বাগভী] আয়াত সংখ্যা: ৫২ আয়াত। নাযিল হওয়ার স্থান: মক্কী। রহমান, রহীম আল্লাহ্র নামে
- 2
مَا ٱلْحَآقَّةُ
Mal haaaqqah
কী সে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা ?
- 3
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلْحَآقَّةُ
Wa maaa adraaka mal haaaqqah
আর কিসে আপনাকে জানাবে সে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কী ?
- 4
كَذَّبَتْ ثَمُودُ وَعَادٌۢ بِٱلْقَارِعَةِ
Kazzabat samoodu wa 'Aadum bil qaari'ah
সামূদ ও ‘আদ সম্প্রদায় মিথ্যারোপ করেছিল ভীতিপ্ৰদ মহাবিপদ সম্পর্কে [১]।
[১] القارعة শব্দটি قرع শব্দ থেকে উৎপন্ন। قرع শব্দের অর্থ আরবী ভাষায় খট্খট শব্দ করা, হাতুড়ি পিটিয়ে শব্দ করা, কড়া নেড়ে শব্দ করা এবং একটি জিনিসকে আরেকটি জিনিস দিয়ে আঘাত করা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। কিয়ামতের ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য এ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কেয়ামত যেহেতু সব মানুষকে অস্থির ও ব্যাকুল করে দেবে এবং সমগ্র আকাশ ও পৃথিবীকে ছিন্ন-বিছিন্ন করে দেবে, তাই একে قارعة বলা হয়েছে। তাছাড়া কিয়ামতের পূর্বাহ্নে যে মহাশব্দের মধ্যে তার সুত্রপাত হবে এখানে সেদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে। [দেখুন-কুরতুবী]
- 5
فَأَمَّا ثَمُودُ فَأُهْلِكُوا۟ بِٱلطَّاغِيَةِ
Fa-ammaa Samoodu fauhlikoo bittaaghiyah
অতঃপর সামূদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্ৰলয়ংকর বিপর্যয়কারী প্ৰচণ্ড চীৎকার দ্বারা,
- 6
وَأَمَّا عَادٌۭ فَأُهْلِكُوا۟ بِرِيحٍۢ صَرْصَرٍ عَاتِيَةٍۢ
Wa ammaa 'Aadun fa uhlikoo bireehin sarsarin 'aatiyah
আর ‘আদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা [১],
[১] ريح صرصر এর অর্থ অত্যধিক শৈত্যসম্পন্ন প্রচন্ড বাতাস। [মুয়াসাসার]
- 7
سَخَّرَهَا عَلَيْهِمْ سَبْعَ لَيَالٍۢ وَثَمَٰنِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومًۭا فَتَرَى ٱلْقَوْمَ فِيهَا صَرْعَىٰ كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍۢ
Sakhkharahaa 'alaihim sab'a la yaalinw wa samaaniyata ayyaamin husooman fataral qawma feehaa sar'aa ka annahum a'jaazu nakhlin khaawiyah
যা তিনি তাদের উপর প্রবাহিত করেছিলেন সাতরাত ও আটদিন বিরামহীনভাবে; তখন আপনি উক্ত সম্প্রদায়কে দেখতেন--- তারা সেখানে লুটিয়ে পরে আছে সারশূন্য খেজুর কাণ্ডের ন্যায়।
- 8
فَهَلْ تَرَىٰ لَهُم مِّنۢ بَاقِيَةٍۢ
Fahal taraa lahum mim baaqiyah
অতঃপর তাদের কাউকেও আপনি বিদ্যমান দেখতে পান কি ?
- 9
وَجَآءَ فِرْعَوْنُ وَمَن قَبْلَهُۥ وَٱلْمُؤْتَفِكَٰتُ بِٱلْخَاطِئَةِ
Wa jaaa'a Firawnu wa man qablahoo wal mu'tafikaatu bilhaati'ah
আর ফির‘আউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং উল্টিয়ে দেয়া জনপদ পাপাচারে লিপ্ত ছিল [১]।
[১] مؤتفكات এর এক অর্থ উল্টে দেয়া, যা উপরে বর্ণিত হয়েছে। অন্য অর্থ পরস্পরের মিশ্রিত ও মিলিত। লুত আলাইহিস্ সালামের সম্প্রদায়ের বস্তি সমূহকে مؤتفكات বলা হয়েছে। [কুরতুবী]
- 10
فَعَصَوْا۟ رَسُولَ رَبِّهِمْ فَأَخَذَهُمْ أَخْذَةًۭ رَّابِيَةً
Fa'ansaw Rasoola Rabbihim fa akhazahum akhzatar raabiyah
অতঃপর তারা তাদের রবের রাসূলকে অমান্য করেছিল, ফলে তিনি তাদেরকে পাকড়াও করলেন --- কঠোর পাকড়াও।
- 11
إِنَّا لَمَّا طَغَا ٱلْمَآءُ حَمَلْنَٰكُمْ فِى ٱلْجَارِيَةِ
Innaa lammaa taghal maaa'u hamalnaakum fil jaariyah
যখন জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল নিশ্চয় তখন আমরা তোমাদেরকে আরোহণ করিয়েছিলাম নৌযানে,
- 12
لِنَجْعَلَهَا لَكُمْ تَذْكِرَةًۭ وَتَعِيَهَآ أُذُنٌۭ وَٰعِيَةٌۭ
Linaj'alahaa lakum tazki ratanw-wa ta'iyahaa unzununw waa'iyah
আমরা এটা করেছিলাম তোমাদের শিক্ষার জন্য এবং এজন্যে যে, যাতে শ্রুতিধর কান এটা সংরক্ষণ করে।
- 13
فَإِذَا نُفِخَ فِى ٱلصُّورِ نَفْخَةٌۭ وَٰحِدَةٌۭ
Fa izaa nufikha fis soori nafkhatunw waahidah
অতঃপর যখন শিংগায় [১] ফুঁক দেয়া হবে ---একটি মাত্ৰ ফুঁক [২] ,
[১] হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, صور কী? জবাবে তিনি বললেন, “শিং এর আকারে কোনো বস্তুকে বলা হয় যাতে ফুঁক দেয়া হবে।” [তিরমিয়ী ২৪৩০, আবু দাউদ ৪৭৪২] [২] পবিত্ৰ কুরআনের কোথাও কোথাও এ দুই শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার কথা ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ফুৎকারের সময় গোটা বিশ্ব-জাহানের লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার যে অবস্থা সূরা আল-হাজ্জের ১ ও ২ আয়াতে, সূরা ইয়াসীনের ৪৯ ও ৫০ আয়াতে এবং সূরা আত-তাকভীরের ১ থেকে ৬ পর্যন্ত আয়াতে বর্ণিত হয়েছে তা তাদের চোখের সামনে ঘটতে থাকবে। পক্ষান্তরে সূরা ত্বা-হার ১০২ থেকে ১১২ আয়াত, সূরা আল-আম্বিয়ার ১০১ থেকে ১০৩ আয়াত, সূরা ইয়াসীনের ৫১ থেকে ৫৩ আয়াত এবং সূরা ক্বাফ এর ২০ থেকে ২২ আয়াতে শুধু শিংগায় দ্বিতীয়বার ফুৎকারের কথা উল্লেখ হয়েছে।
- 14
وَحُمِلَتِ ٱلْأَرْضُ وَٱلْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةًۭ وَٰحِدَةًۭ
Wa humilatil ardu wal jibaalu fadukkataa dakkatanw waahidah
আর পর্বতমালা সহ পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হবে এবং মাত্র এক ধাক্কায় তারা চুৰ্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।
- 15
فَيَوْمَئِذٍۢ وَقَعَتِ ٱلْوَاقِعَةُ
Fa yawma'izinw waqa'atil waaqi'ah
ফলে সেদিন সংঘটিত হবে মহাঘটনা,
- 16
وَٱنشَقَّتِ ٱلسَّمَآءُ فَهِىَ يَوْمَئِذٍۢ وَاهِيَةٌۭ
Wanshaqqatis samaaa'u fahiya yawma 'izinw-waahiyah
আর আসমান বিদীর্ণ হয়ে যাবে ফলে সেদিন তা দুর্বল-বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে।
- 17
وَٱلْمَلَكُ عَلَىٰٓ أَرْجَآئِهَا ۚ وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍۢ ثَمَٰنِيَةٌۭ
Wal malaku 'alaaa arjaaa'ihaa; wa yahmilu 'Arsha Rabbika fawqahum yawma'izin samaaniyah
আর ফেরেশ্তাগণ আসমানের প্রান্ত দেশে থাকবে এবং সেদিন আটজন ফিরিশ্তা আপনার রবের ‘আরশকে ধারণ করবে তাদের উপরে।
- 18
يَوْمَئِذٍۢ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَىٰ مِنكُمْ خَافِيَةٌۭ
Yawma'izin tu'radoona laa takhfaa min kum khaafiyah
সেদিন উপস্থিত করা হবে তোমাদেরকে এবং তোমাদের কোনো গোপনই আর গোপন থাকবে না।
- 19
فَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَٰبَهُۥ بِيَمِينِهِۦ فَيَقُولُ هَآؤُمُ ٱقْرَءُوا۟ كِتَٰبِيَهْ
Fa ammaa man ootiya kitaabahoo biyameenihee fa yaqoolu haaa'umuq ra'oo kitaabiyah
তখন যাকে তার ‘আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবে, ‘লও, আমার ‘আমলনামা পড়ে দেখ [১];
[১] هاؤم শব্দের এক অর্থ, আস। অন্য অর্থ, লও। উদ্দেশ্য এই যে, আমলনামা ডানহাতে পাওয়ার সাথে সাথেই তারা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠবে এবং নিজের বন্ধু-বান্ধবদের তা দেখাবে। সে আহলাদে আটখানা হয়ে আশেপাশের লোকজনকে বলবে, লও আমার আমলনামা পাঠ করে দেখ। কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে যে, “সে আনন্দচিত্তে আপনজনদের কাছে ফিরে যাবে।” [সূরা আল-ইনশিকাক ৯]
- 20
إِنِّى ظَنَنتُ أَنِّى مُلَٰقٍ حِسَابِيَهْ
Innee zannantu annee mulaaqin hisaabiyah
‘আমি দৃঢ়বিশ্বাস করতাম যে, আমাকে আমার হিসেবের সম্মুখীন হতে হবে।’
- 21
فَهُوَ فِى عِيشَةٍۢ رَّاضِيَةٍۢ
Fahuwa fee 'eeshatir raadiyah
কাজেই সে যাপন করবে সন্তোষজনক জীবন;
- 22
فِى جَنَّةٍ عَالِيَةٍۢ
Fee jannnatin 'aaliyah
সুউচ্চ জান্নাতে
- 23
قُطُوفُهَا دَانِيَةٌۭ
Qutoofuhaa daaniyah
যার ফলরাশি অবনমিত থাকবে নাগালের মধ্যে।
- 24
كُلُوا۟ وَٱشْرَبُوا۟ هَنِيٓـًٔۢا بِمَآ أَسْلَفْتُمْ فِى ٱلْأَيَّامِ ٱلْخَالِيَةِ
Kuloo washraboo haneee'am bimaaa aslaftum fil ayyaamil khaliyah
বলা হবে, ‘পানাহার কর তৃপ্তির সাথে, তোমরা অতীত দিনে যা করেছিলে তার বিনিময়ে।’
- 25
وَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَٰبَهُۥ بِشِمَالِهِۦ فَيَقُولُ يَٰلَيْتَنِى لَمْ أُوتَ كِتَٰبِيَهْ
Wa ammaa man ootiya kitaabahoo bishimaalihee fa yaqoolu yaalaitanee lam oota kitaaabiyah
কিন্তু যার ‘আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবে, ‘হায়! আমাকে যদি দেয়াই না হত আমার ‘আমলনামা,
- 26
وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهْ
Wa lam adri maa hisaabiyah
আর আমি যদি না জানতাম আমার হিসেব !
- 27
يَٰلَيْتَهَا كَانَتِ ٱلْقَاضِيَةَ
Yaa laitahaa kaanatil qaadiyah
‘হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হত !
- 28
مَآ أَغْنَىٰ عَنِّى مَالِيَهْ ۜ
Maaa aghnaa 'annee maaliyah
‘আমার ধন-সম্পদ আমার কোনো কাজেই আসল না।
- 29
هَلَكَ عَنِّى سُلْطَٰنِيَهْ
Halaka 'annee sultaaniyah
‘আমার ক্ষমতাও বিনষ্ট হয়েছে।’
- 30
خُذُوهُ فَغُلُّوهُ
Khuzoohu faghullooh
ফেরেশতাদেরকে বলা হবে, ‘ধর তাকে, তার গলায় বেড়ী পরিয়ে দাও।
- 31
ثُمَّ ٱلْجَحِيمَ صَلُّوهُ
Summal Jaheema sallooh
‘তারপর তোমরা তাকে জাহান্নামে প্ৰবেশ করিয়ে দগ্ধ কর।
- 32
ثُمَّ فِى سِلْسِلَةٍۢ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًۭا فَٱسْلُكُوهُ
Summa fee silsilatin zar'uhaa sab'oona ziraa'an faslukooh
‘তারপর তাকে শৃংখলিত কর এমন এক শেকলে যার দৈর্ঘ্য হবে সত্তর হাত’ [১],
[১] অর্থাৎ ফেরেশতাদেরকে আদেশ করা হবে, এই অপরাধীকে ধর এবং তার গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও। অতঃপর তাকে সত্তর গজ দীর্ঘ এক শিকলে গ্রথিত করে দাও। এ শিকল সংক্রান্ত এক বর্ণনা হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যদি এ শিকলের একটি গ্রন্থি আসমান থেকে দুনিয়াতে পাঠানো হয় তবে (অতি ভারী হওয়ার কারণে) রাতের আগেই যমীনে এসে পড়বে। যদিও আসমান ও যমীনের মাঝের দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ। আর সেটা যদি শিকলের মাথার অংশ হয় (অর্থাৎ আরো বড় ও ভারী হয়) তারপর যদি তা জাহান্নামে ফেলা হয় তবে সেটা তার নিম্নভাগে পৌঁছতে চল্লিশ বছর লাগবে।” [তিরমিয়ী ২৫৮৮, মুসনাদে আহমাদ ২/১৯৭]
- 33
إِنَّهُۥ كَانَ لَا يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ ٱلْعَظِيمِ
Innahoo kaana laa yu'minubillaahil 'Azeem
নিশ্চয় সে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানদার ছিল না,
- 34
وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ
wa laa yahuddu 'alaa ta'aamil miskeen
আর মিসকীনকে অন্নদানে উৎসাহিত করত না,
- 35
فَلَيْسَ لَهُ ٱلْيَوْمَ هَٰهُنَا حَمِيمٌۭ
Falaysa lahul yawma haahunaa hameem
অতএব, এ দিন তার কোনো সুহৃদ থাকবে না,
- 36
وَلَا طَعَامٌ إِلَّا مِنْ غِسْلِينٍۢ
Wa laa ta'aamun illaa min ghisleen
আর কোনো খাদ্য থাকবে না ক্ষত নিঃসৃত স্রাব ছাড়া,
- 37
لَّا يَأْكُلُهُۥٓ إِلَّا ٱلْخَٰطِـُٔونَ
Laa yaakuluhooo illal khati'oon
যা অপরাধী ছাড়া কেউ খাবে না।
- 38
فَلَآ أُقْسِمُ بِمَا تُبْصِرُونَ
Falaaa uqsimu bimaa tubsiroon
অতএব, আমি কসম করছি তার, যা তোমরা দেখতে পাও
‘দ্বিতীয় রুকূ’
- 39
وَمَا لَا تُبْصِرُونَ
Wa maa laa tubsiroon
এবং যা তোমরা দেখতে পাওনা তারও;
- 40
إِنَّهُۥ لَقَوْلُ رَسُولٍۢ كَرِيمٍۢ
Innahoo laqawlu Rasoolin kareem
নিশ্চয় এ কুরআন এক সম্মানিত রাসূলের (বাহিত) বাণী [১]।
[১] এখানে সম্মানিত রাসূল বলতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। [কুরতুবী]
- 41
وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍۢ ۚ قَلِيلًۭا مَّا تُؤْمِنُونَ
Wa ma huwa biqawli shaa'ir; qaleelam maa tu'minoon
আর এটা কোনো কবির কথা নয়; তোমরা খুব অল্পই ঈমান পোষণ করে থাক,
- 42
وَلَا بِقَوْلِ كَاهِنٍۢ ۚ قَلِيلًۭا مَّا تَذَكَّرُونَ
Wa laa biqawli kaahin; qaleelam maa tazakkaroon
এটা কোনো গণকের কথাও নয়, তোমরা অল্পই উপদেশ গ্ৰহণ কর।
- 43
تَنزِيلٌۭ مِّن رَّبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
Tanzeelum mir rabbil 'aalameen
এটা সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে নাযিলকৃত।
- 44
وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ ٱلْأَقَاوِيلِ
Wa law taqawwala 'alainaa ba'dal aqaaweel
তিনি যদি আমাদের নামে কোনো কথা রচনা করে চালাতে চেষ্টা করতেন,
- 45
لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِٱلْيَمِينِ
La-akhaznaa minhu bilyameen
তবে অবশ্যই আমরা তাকে পাকড়াও করতাম ডান হাত দিয়ে [১] ,
[১] উপরোক্ত অর্থ অনুসারে এটি সিফাতের আয়াত। অর্থাৎ এর মাধ্যমে আল্লাহর ডান হাত সাব্যস্ত হচ্ছে। [ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসুল জাহমিয়্যাহ ৩/৩৩৮] আয়াতের অন্য অর্থ হচ্ছে, আমরা তার ডান হাত পাকড়াও করতাম। উভয় অর্থই ইবন কাসীর উল্লেখ করেছেন। এ অর্থটি এদিক দিয়ে শুদ্ধ যে, সাধারণত কাউকে অপমান করতে হলে তার ডান হাত ধরে তার উপর আক্রমণ করা হয়। [ইবন তাইমিয়্যাহ, আন-নুবুওয়াত ২/৮৯৮] অপর অর্থ হচ্ছে, তাকে আমরা আমাদের ক্ষমতা দ্বারা পাকড়াও করতাম। [সা'দী; জালালাইন; আর দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, আস-সারেমুল মাসলূল আলা শাতিমির রাসূল ১৭] এটি শুদ্ধ হলেও আল্লাহর হাত অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যা অন্যান্য আয়াত ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
- 46
ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ ٱلْوَتِينَ
Summa laqata'naa minhul wateen
তারপর অবশ্যই আমরা কেটে দিতাম তার হৃদপিণ্ডের শিরা,
- 47
فَمَا مِنكُم مِّنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَٰجِزِينَ
Famaa minkum min ahadin'anhu haajizeen
অতঃপর তোমাদের মধ্যে এমন কেউই নেই, যে তাঁকে রক্ষা করতে পারে।
- 48
وَإِنَّهُۥ لَتَذْكِرَةٌۭ لِّلْمُتَّقِينَ
Wa innahoo latazkiratul lilmuttaqeen
আর এ কুরআন মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই এক উপদেশ।
- 49
وَإِنَّا لَنَعْلَمُ أَنَّ مِنكُم مُّكَذِّبِينَ
Wa inna lana'lamu anna minkum mukazzibeen
আর আমরা অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে মিথ্যা আরোপকারী রয়েছে।
- 50
وَإِنَّهُۥ لَحَسْرَةٌ عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ
Wa innahu lahasratun 'alal kaafireen
আর এ কুরআন নিশ্চয়ই কাফিরদের অনুশোচনার কারণ হবে,
- 51
وَإِنَّهُۥ لَحَقُّ ٱلْيَقِينِ
Wa innahoo lahaqqul yaqeen
আর নিশ্চয় এটা সুনিশ্চিত সত্য।
- 52
فَسَبِّحْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلْعَظِيمِ
Fasbbih bismi Rabbikal 'Azeem
অতএব, আপনি আপনার মহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন।
অনুবাদ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া · QuranEnc.com
