সূরা 26

আশ শুআরা

الشُّعَرَاءِ

Ash-Shu'ara · মাক্কী · 227 আয়াত

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

  1. 1

    طسٓمٓ

    Taa-Seeen-Meeem

    ত্বা-সীন-মীম।

    ২৬- সূরা আশ-শুআরা ২২৭ আয়াত, মাক্কী।

  2. 2

    تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُبِينِ

    Tilka Aayaatul Kitaabil Mubeen

    এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

  3. 3

    لَعَلَّكَ بَٰخِعٌۭ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَ

    La'allaka baakhi'un nafsaka allaa yakoonoo mu'mineen

    তারা মুমিন হচ্ছে না বলে আপনি হয়ত মনোকষ্টে আত্মঘাতী হয়ে পড়বেন।

  4. 4

    إِن نَّشَأْ نُنَزِّلْ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ ءَايَةًۭ فَظَلَّتْ أَعْنَٰقُهُمْ لَهَا خَٰضِعِينَ

    In nashaa nunazzil 'alaihim minas samaaa'i Aayatan fazallat a'naaquhum lahaa khaadi'een

    আমরা ইচ্ছে করলে আসমান থেকে তাদের কাছে এক নিদর্শন নাযিল করতাম, ফলে সেটার প্রতি তাদের ঘাড় বিনত হয়ে পড়ত।

  5. 5

    وَمَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍۢ مِّنَ ٱلرَّحْمَٰنِ مُحْدَثٍ إِلَّا كَانُوا۟ عَنْهُ مُعْرِضِينَ

    Wa maa yaateehim min zikrim minar Rahmaani muhdasin illaa kaanoo 'anhu mu'rideen

    আর যখনই তাদের কাছে দয়াময়ের কাছ থেকে কোনো নতুন উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

  6. 6

    فَقَدْ كَذَّبُوا۟ فَسَيَأْتِيهِمْ أَنۢبَٰٓؤُا۟ مَا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ

    Faqad kazzaboo fasa yaateehim ambaaa'u maa kaanoo bihee yastahzi'oon

    অতএব, তারা তো মিথ্যারোপ করেছে। কাজেই তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তার প্রকৃত বার্তা তাদের কাছে শীঘ্রই এসে পড়বে।

  7. 7

    أَوَلَمْ يَرَوْا۟ إِلَى ٱلْأَرْضِ كَمْ أَنۢبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍۢ كَرِيمٍ

    Awa lam yaraw ilal ardi kam ambatnaa feehaa min kulli zawjin kareem

    তারা কি যমীনের দিকে লক্ষ্য করে না? আমরা তাতে প্ৰত্যেক প্রকারের অনেক উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদ্গত করেছি [১]!

    [১] زَوْجٍ এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে যুগল। এ কারণেই পুরুষ ও স্ত্রী, নর ও নারীকে زَوْجٍ বলা হয়। অনেক বৃক্ষের মধ্যেও নর ও নারী থাকে, সেগুলোকে এদিক দিয়ে زَوْجٍ বলা যায়। কোনো সময় এ শব্দটি বিশেষ প্রকার ও শ্রেণীর অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এ হিসাবে বৃক্ষের প্রত্যেক প্রকারকে زَوْجٍ বলা যায়। كَرِيمٍ শব্দের অর্থ উৎকৃষ্ট ও পছন্দনীয় বস্তু। [দেখুন-আদওয়াউল বায়ান, কুরতুবী, ফাতহুল কাদীর]

  8. 8

    إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ

    Inn fee zaalika la Aayah; wa maa kaana aksaruhum mu'mineen

    নিশ্চয় এতে আছে নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই মুমিন নয়।

  9. 9

    وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ

    Wa inna Rabbaka la Huwal 'Azeezur Raheem

    আর নিশ্চয় আপনার রব, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  10. 10

    وَإِذْ نَادَىٰ رَبُّكَ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱئْتِ ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَ

    Wa iz naadaa Rabbuka Moosaaa ani'-til qawmaz zaalimeen

    আর স্মরণ করুন, যখন আপনার রব মূসাকে ডেকে বললেন, ‘আপনি যালিম সম্পপ্রদায়ের কাছে যান,

  11. 11

    قَوْمَ فِرْعَوْنَ ۚ أَلَا يَتَّقُونَ

    Qawma Fir'awn; alaa yattaqoon

    ‘ফির‘আউনের সম্পপ্রদায়ের কাছে; তারা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না?’

  12. 12

    قَالَ رَبِّ إِنِّىٓ أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ

    Qaala Rabbi inneee akhaafu ai yukazziboon

    মূসা বলেছিলেন, ‘হে আমার রব! আমি আশংকা করছি যে, তারা আমার উপর মিথ্যারোপ করবে,

  13. 13

    وَيَضِيقُ صَدْرِى وَلَا يَنطَلِقُ لِسَانِى فَأَرْسِلْ إِلَىٰ هَٰرُونَ

    Wa yadeequ sadree wa laa yantaliqu lisaanee fa arsil ilaa Haaroon

    ‘এবং আমার বক্ষ সংকুচিত হয়ে পড়ছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নেই। কাজেই হারূনের প্রতিও ওহী পাঠান।

  14. 14

    وَلَهُمْ عَلَىَّ ذَنۢبٌۭ فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِ

    Wa lahum 'alaiya zambun fa akhaafu ai yaqtuloon

    ‘আর আমার বিরুদ্ধে তো তাদের এক অভিযোগ আছে, সুতরাং আমি আশংকা করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।’

  15. 15

    قَالَ كَلَّا ۖ فَٱذْهَبَا بِـَٔايَٰتِنَآ ۖ إِنَّا مَعَكُم مُّسْتَمِعُونَ

    Qaala kallaa fazhabaa bi Aayaatinaaa innaa ma'akum mustami'oon

    আল্লাহ্‌ বললেন, ‘না, কখনই নয়, অতএব আপনারা উভয়ে আমাদের নিদর্শনসহ যান, আমরা তো আপনাদের সাথেই আছি, শ্রবণকারী।

  16. 16

    فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَآ إِنَّا رَسُولُ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

    Faatiyaa Fir'awna faqoolaaa innaa Rasoolu Rabbil 'aalameen

    ‘অতএব, আপনারা উভয়ে ফির‘আউনের কাছে যান এবং বলুন, ‘আমরা তো সৃষ্টিকুলের রবের রাসূল,

  17. 17

    أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ

    An arsil ma'anaa Baneee Israaa'eel

    যাতে তুমি আমাদের সাথে যেতে দাও বনী ইসরাইলকে [১]।’

    [১] বনী ইসরাঈল ছিল শাম দেশের বাসিন্দা। ফির‘আউন তাদেরকে স্বদেশে যেতে বাধা দিত। এভাবে চার শত বছর ধরে তারা ফির‘আউনের বন্দীশালায় গোলামীর জীবন যাপন করছিল। [দেখুন- বাগভী, কুরতুবী]

  18. 18

    قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًۭا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ

    Qaala alam nurabbika feenaa waleedanw wa labista feenaa min 'umurika sineen

    ফির‘আউন বলল, ‘আমরা কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মধ্যে লালন-পালন করিনি? আর তুমি তো তোমার জীবনের বহু বছর আমাদের মধ্যে কাটিয়েছ,

  19. 19

    وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ ٱلَّتِى فَعَلْتَ وَأَنتَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ

    Wa fa'alta fa'latakal latee fa'alta wa anta minal kaafireen

    ‘এবং তুমি তোমার কাজ যা করার তা করেছ; তুমি তো অকৃতজ্ঞ।’

  20. 20

    قَالَ فَعَلْتُهَآ إِذًۭا وَأَنَا۠ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ

    Qaala fa'altuhaaa izanw wa ana minad daaaleen

    মূসা বললেন, ‘আমি তো এটা করেছিলাম তখন, যখন আমি ছিলাম বিভ্ৰান্ত’ [২]।

    [১] সারকথা এই যে, এ হত্যাকাণ্ড অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছিল। কাজেই এখানে ضلالة শব্দের অর্থ অজ্ঞাত তথা অনিচ্ছাকৃতভাবে কিবতীর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া। [ফাতহুল কাদীর, কুরতুবী]

  21. 21

    فَفَرَرْتُ مِنكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِى رَبِّى حُكْمًۭا وَجَعَلَنِى مِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ

    Fafarartu minkum lam maa khiftukum fawahaba lee Rabbee hukmanw wa ja'alanee minal mursaleen

    ‘তারপর আমি যখন তোমাদের ভয়ে ভীত হলাম তখন আমি তোমাদের কাছ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলাম। এরপর আমার রব আমাকে প্রজ্ঞা (নবুওয়ত) দিয়েছেন এবং আমাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

  22. 22

    وَتِلْكَ نِعْمَةٌۭ تَمُنُّهَا عَلَىَّ أَنْ عَبَّدتَّ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ

    Wa tilka ni'matun tamun nuhaa 'alaiya an 'abbatta Baneee Israaa'eel

    ‘আর আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে তুমি দয়া দেখাচ্ছ তা তো এই যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করেছ [১] ।’

    [১] অর্থাৎ তোমরা যদি বনী ইসরাঈলের প্রতি জুলুম-নিপীড়ন না চালাতে তাহলে আমি প্রতিপালিত হওয়ার জন্য তোমাদের গৃহে কেন আসতাম? তোমাদের জুলুমের কারণেই তো আমার মা আমাকে ঝুড়িতে ভরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। নয়তো আমার লালন-পালনের জন্য কি আমার নিজের গৃহ ছিল না? তাই এ লালন-পালনের জন্য অনুগৃহীত করার খোঁটা দেয়া তোমার মুখে শোভা পায় না। [দেখুন- কুরতুবী]

  23. 23

    قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ ٱلْعَٰلَمِينَ

    Qaala Fir'awnu wa maa Rabbul 'aalameen

    ফির‘আউন বলল, ‘সৃষ্টিকুলের রব আবার কী?’

  24. 24

    قَالَ رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَآ ۖ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ

    Qaala Rabbus samaawaati wal ardi wa maa bainahumaa in kuntum mooqineen

    মূসা বললেন, ‘তিনি আসমানসমূহ ও যমীন এবং তাদের মধ্যবর্তী সব কিছুর রব, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।’

  25. 25

    قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُۥٓ أَلَا تَسْتَمِعُونَ

    Qaala liman hawlahooo alaa tastami'oon

    ফির‘আউন তার আশেপাশের লোকদের লক্ষ করে বলল, ‘তোমরা কি ভাল করে শুনছ না?’

  26. 26

    قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ ءَابَآئِكُمُ ٱلْأَوَّلِينَ

    Qaala Rabbukum wa Rabbu aabaaa'ikumul awwaleen

    মূসা বললেন, ‘তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও রব।’

  27. 27

    قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ ٱلَّذِىٓ أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌۭ

    Qaala inna Rasoolakumul lazee ursila ilaikum lamajnoon

    ফির‘আউন বলল, ‘তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রাসূল তো অবশ্যই পাগল।’

  28. 28

    قَالَ رَبُّ ٱلْمَشْرِقِ وَٱلْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَآ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ

    Qaala Rabbul mashriqi wal maghribi wa maa baina humaa in kuntum ta'qiloon

    মূসা বললেন, ‘তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের এবং তাদের মধ্যবর্তী সব কিছুর রব; যদি তোমরা বুঝে থাকো!’

  29. 29

    قَالَ لَئِنِ ٱتَّخَذْتَ إِلَٰهًا غَيْرِى لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ ٱلْمَسْجُونِينَ

    Qaala la'init takhazta ilaahan ghairee la aj'alannaka minal masjooneen

    ফির‘আউন বলল, ‘তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে ইলাহরূপে গ্ৰহণ কর আমি তোমাকে অবশ্যই কারারুদ্ধ করব।’

  30. 30

    قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَىْءٍۢ مُّبِينٍۢ

    Qaala awalw ji'tuka bishai'im mubeen

    মূসা বললেন, ‘আমি যদি তোমার কাছে কোনো স্পষ্ট বিষয় নিয়ে আসি, তবুও [১]?’

    [১] অর্থাৎ যদি আমি সত্যিই সমগ্র বিশ্ব-জাহানের, আকাশ ও পৃথিবীর এবং পূর্ব ও পশ্চিমের রবের পক্ষ থেকে যে আমাকে পাঠানো হয়েছে এর সপক্ষে সুস্পষ্ট আলামত পেশ করি, তাহলে এ অবস্থায়ও কি আমার কথা মেনে নিতে অস্বীকার করা হবে এবং আমাকে কারাগারে পাঠানো হবে? [দেখুন- বাগভী]

  31. 31

    قَالَ فَأْتِ بِهِۦٓ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ

    Qaala faati biheee in kunta minas saadiqeen

    ফির‘আউন বলল, ‘তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে তা উপস্থিত কর।’

  32. 32

    فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ ثُعْبَانٌۭ مُّبِينٌۭ

    Fa alqaa 'asaahu fa izaaa hiya su'baanum mubeen

    তারপর মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলে তৎক্ষণাৎ তা এক স্পষ্ট অজগরে [১] পরিণত হল।

    [১] কুরআন মজীদে কোনো জায়গায় এ জন্য حيّة (সাপ) আবার কোথাও جانّ (ছোট সাপ) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আর এখানে বলা হচ্ছে ثعبان (অজগর)। এর ব্যাখ্যা এভাবে করা যায় যে حيّة আরবী ভাষায় সর্পজাতির সাধারণ নাম। তা ছোট সাপও হতে পারে আবার বড় সাপও হতে পারে। আর ثعبان শব্দ ব্যবহার করার কারণ হচ্ছে এই যে, দৈহিক আয়তন ও স্থূলতার দিক দিয়ে তা ছিল অজগরের মতো। অন্যদিকে جان শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে ছোট সাপের মতো তার ক্ষীপ্ৰতা ও তেজস্বীতার জন্য। [দেখুন- ফাতহুল কাদীর]

  33. 33

    وَنَزَعَ يَدَهُۥ فَإِذَا هِىَ بَيْضَآءُ لِلنَّٰظِرِينَ

    Wa naza'a yadahoo faizaa hiya baidaaa'u linnaa zireen

    আর মূসা তার হাত বের করলে তৎক্ষনাৎ তা দর্শকদের দৃষ্টিতে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত হল।

  34. 34

    قَالَ لِلْمَلَإِ حَوْلَهُۥٓ إِنَّ هَٰذَا لَسَٰحِرٌ عَلِيمٌۭ

    Qaala lilmala-i hawlahooo inna haazaa lasaahirun 'aleem

    ফির‘আউন তার আশেপাশের পরিষদবৰ্গকে বলল, ‘এ তো এক সুদক্ষ জাদুকর!

  35. 35

    يُرِيدُ أَن يُخْرِجَكُم مِّنْ أَرْضِكُم بِسِحْرِهِۦ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ

    Yureedu ai yukhrijakum min ardikum bisihrihee famaazaa taamuroon

    ‘সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে তার জাদুবলে বহিস্কৃত করতে চায়। এখন তোমরা কী করতে বল?’

  36. 36

    قَالُوٓا۟ أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَٱبْعَثْ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ

    Qaalooo arjih wa akhaahu wab'as filmadaaa'ini haashireen

    তারা বলল, ‘তাকে ও তার ভাইকে কিছু অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সংগ্রাহকদেরকে পাঠাও,

  37. 37

    يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍۢ

    Yaatooka bikulli sah haarin 'aleem

    ‘যেন তারা তোমার কাছে প্রতিটি অভিজ্ঞ জাদুকরকে উপস্থিত করে।’

  38. 38

    فَجُمِعَ ٱلسَّحَرَةُ لِمِيقَٰتِ يَوْمٍۢ مَّعْلُومٍۢ

    Fa jumi'as saharatu limeeqaati Yawmim ma'loom

    অতঃপর এক নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট সময়ে জাদুকরদেরকে একত্র করা হল,

  39. 39

    وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلْ أَنتُم مُّجْتَمِعُونَ

    Wa qeela linnaasi hal antum mujtami'oon

    এবং লোকদেরকে বলা হল, ‘তোমরাও সমবেত হচ্ছে কি?

  40. 40

    لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ ٱلسَّحَرَةَ إِن كَانُوا۟ هُمُ ٱلْغَٰلِبِينَ

    La'allanaa nattabi'us saharata in kaanoo humul ghaalibeen

    ‘যেন আমরা জাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি, যদি তারা বিজয়ী হয়।’

  41. 41

    فَلَمَّا جَآءَ ٱلسَّحَرَةُ قَالُوا۟ لِفِرْعَوْنَ أَئِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِن كُنَّا نَحْنُ ٱلْغَٰلِبِينَ

    Falammaa jaaa'as saharatu qaaloo li Fir'awna a'inna lanaa la ajjran in kunnaa nahnul ghaalibeen

    অতঃপর জাদুকরেরা এসে ফির‘আউনকে বলল, ‘আমরা যদি বিজয়ী হই আমাদের জন্য পুরস্কার থাকবে তো?’

  42. 42

    قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ إِذًۭا لَّمِنَ ٱلْمُقَرَّبِينَ

    Qaala na'am wa innakum izal laminal muqarrabeen

    ফির‘আউন বলল, ‘হ্যাঁ, তখন তো তোমরা অবশ্যই আমার ঘনিষ্ঠদের শামিল হবে।’

  43. 43

    قَالَ لَهُم مُّوسَىٰٓ أَلْقُوا۟ مَآ أَنتُم مُّلْقُونَ

    Qaala lahum Moosaaa alqoo maaa antum mulqoon

    মূসা তাদেরকে বললেন, ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ কর।’

  44. 44

    فَأَلْقَوْا۟ حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا۟ بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ ٱلْغَٰلِبُونَ

    Fa alqaw hibaalahum wa 'isiyyahum wa qaaloo bi'izzati Fir'awna innaa lanahnul ghaaliboon

    অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল এবং তারা বলল, ‘ফির‘আউনের ইযযতের শপথ! আমরাই তো বিজয়ী হব।’

  45. 45

    فَأَلْقَىٰ مُوسَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ

    Fa alqaa Moosaa 'asaahu fa izaa hiya talqafu maa yaafikoon

    অতঃপর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলেন, সহসা সেটা তাদের অলীক কীর্তিগুলোকে গ্ৰাস করতে লাগল।

  46. 46

    فَأُلْقِىَ ٱلسَّحَرَةُ سَٰجِدِينَ

    Fa ulqiyas saharatu saajideen

    তখন জাদুকরেরা সাজদাবনত হয়ে পড়ল।

  47. 47

    قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

    Qaalooo aamannaa bi Rabbil 'aalameen

    তারা বলল, ‘আমরা ঈমান আনলাম সৃষ্টিকুলের রবের প্রতি---

  48. 48

    رَبِّ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ

    Rabbi Moosaa wa Haaroon

    ‘যিনি মূসা ও হারূনেরও রব।’

  49. 49

    قَالَ ءَامَنتُمْ لَهُۥ قَبْلَ أَنْ ءَاذَنَ لَكُمْ ۖ إِنَّهُۥ لَكَبِيرُكُمُ ٱلَّذِى عَلَّمَكُمُ ٱلسِّحْرَ فَلَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ۚ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَٰفٍۢ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ

    Qaala aamantum lahoo qabla an aazana lakum innahoo lakabeerukumul lazee 'alla makumus sihra falasawfa ta'lamoon; la uqatti'anna aidiyakum wa arjulakum min khilaafinw wa la usallibanna kum ajma'een

    ফির‘আউন বলল, ‘কী! আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি বিশ্বাস করলে? সে-ই তো তোমাদের প্রধান যে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়েছে। সুতরাং শীঘ্রই তোমরা এর পরিণাম জানবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত এবং তোমাদের পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব এবং তোমাদের সবাইকে শূলবিদ্ধ করবই।’

  50. 50

    قَالُوا۟ لَا ضَيْرَ ۖ إِنَّآ إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ

    Qaaloo la daira innaaa ilaa Rabbinaa munqalliboon

    তারা বলল, ‘কোনো ক্ষতি নেই [১], আমরা তো আমাদের রবের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।

    [১] অর্থাৎ যখন ফির‘আউন জাদুকরদেরকে বিশ্বাস স্থাপনের কারণে হত্যা, হস্ত-পদ কর্তন ও শূলে চড়ানোর হুমকি দিল, তখন জাদুকররা অত্যন্ত তাচ্ছিল্যাভরে জবাব দিল: তুমি যা করতে পার কর। আমাদের কোনো ক্ষতি নেই। আমরা নিহত হলেও পালনকর্তার কাছে পৌঁছে যাব, সেখানের আরামই আরাম। [কুরতুবী, ফাতহুল কাদীর, মুয়াসসার]

  51. 51

    إِنَّا نَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَٰيَٰنَآ أَن كُنَّآ أَوَّلَ ٱلْمُؤْمِنِينَ

    Innaa natma'u ai yaghfira lanaa Rabbunna khataa yaanaaa an kunnaaa awwalal mu'mineen

    আমরা আশা করি যে, আমাদের রব আমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন, কারণ আমরা মুমিনদের মধ্যে অগ্রণী।’

  52. 52

    ۞ وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِىٓ إِنَّكُم مُّتَّبَعُونَ

    Wa awhainaaa ilaa Moosaaa an asri bi'ibaadeee innakum muttaba'oon

    আর আমরা মূসার প্রতি ওহী করেছিলাম এ মর্মে যে, ‘আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাতে বের হউন [১], অবশ্যই তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।’

    [১] এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক বেদুঈনের বাসায় গেলে সে তাঁকে সম্মান করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: তুমি আমার সাথে সাক্ষাত করতে এসো। বেদুঈন রাসূলের সাথে সাক্ষাত করতে আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কিছু চাও? সে বলল: এক উট তার মালামালসহ, আর কিছু ছাগল যা আমার স্ত্রী দোহাতে পারে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি কি বনী ইসরাঈলের বৃদ্ধার মত হতে পারলে না? সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, বনী ইসরাঈলের বৃদ্ধা, হে আল্লাহ্‌র রাসূল, সে আবার কে? রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, মূসা ‘আলাইহিস সালাম যখন বনী ইসরাঈলদের নিয়ে বের হলেন, তখন পথ হারিয়ে ফেললেন। তিনি বনী ইসরাঈলদের বললেন, কেন এমন হল? তখন তাদের মাঝে আলেমগণ বললেন, ইউসুফ ‘আলাইহিস সালাম মৃত্যুর পূর্বে বনী ইসরাঈল থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, বনী ইসরাঈল মিসর ছেড়ে যাওয়ার সময় অবশ্যই তার কফিনের বাক্স সাথে নিয়ে যাবে। আর যেহেতু তা নেয়া হয়নি, সেহেতু পথ হারিয়ে যাচ্ছে। তখন ইউসুফ ‘আলাইহিস সালামের কফিনের সন্ধান করা হল, কেউই তার হদিস দিতে পারল না, শুধু এক বৃদ্ধা ব্যতীত। কিন্তু সে শর্ত সাপেক্ষে বলতে রাজী হল। সে জান্নাতে মূসা ‘আলাইহিস সালামের সাথে থাকার শর্ত দিল। মূসা ‘আলাইহিস সালাম কিছুতেই রাজী হন না। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্‌র নির্দেশে মূসা ‘আলাইহিস সালাম রাজী হলেন। তখন বৃদ্ধা এক এলাকায় সেটা দেখিয়ে দিল। সেখানে পানি ছিল। লোকজন সেই পানি সেঁচে ইউসুফ ‘আলাইহিস সালামের কফিনের বাক্স বের করে আনলে সমস্ত পথ স্পষ্ট হয়ে যায়। [ইবন হিব্বান ৭২৩, মুস্তাদরাকে হাকিম ২/৪০৪-৪০৫, ৫৭১, ৫৭২]

  53. 53

    فَأَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ

    Fa arsala Fir'awnu filmadaaa'ini haashireen

    তারপর ফির‘আউন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারী পাঠাল,

  54. 54

    إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ لَشِرْذِمَةٌۭ قَلِيلُونَ

    Inna haaa'ulaaa'i lashir zimatun qaleeloon

    এ বলে, ‘এরা তো ক্ষুদ্র একটি দল

  55. 55

    وَإِنَّهُمْ لَنَا لَغَآئِظُونَ

    Wa innahum lanaa laghaaa'izoon

    আর তারা তো আমাদের ক্ৰোধ উদ্রেক করেছে;

  56. 56

    وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَٰذِرُونَ

    Wa innaa lajamee'un haaziroon

    আর আমরা তো সবাই সদা সতর্ক।’

  57. 57

    فَأَخْرَجْنَٰهُم مِّن جَنَّٰتٍۢ وَعُيُونٍۢ

    Fa akhrajnaahum min Jannaatinw wa 'uyoon

    পরিণামে আমরা ফির‘আউন গোষ্ঠীকে বহিষ্কৃত করলাম তাদের উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণ হতে

  58. 58

    وَكُنُوزٍۢ وَمَقَامٍۢ كَرِيمٍۢ

    Wa kunoozinw wa ma qaamin kareem

    এবং ধন-ভাণ্ডার ও সুরম্য সৌধমালা হতে।

  59. 59

    كَذَٰلِكَ وَأَوْرَثْنَٰهَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ

    Kazaalika wa awrasnaahaa Baneee Israaa'eel

    এরূপই ঘটেছিল এবং আমরা বনী ইসরাঈলকে করেছিলাম এসবের অধিকারী [১]।

    [১] এ আয়াতে বাহ্যতঃ বলা হয়েছে যে, ফির‘আউন সম্প্রদায়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি, বাগ-বাগিচা ও ধন-ভাণ্ডারের মালিক তাদের নিমজ্জিত হওয়ার পর বনী ইসরাঈলকে করে দেয়া হয়। [তাবারী, কুরতুবী] এই ঘটনাটি কুরআনুল কারীমের একাধিক সূরায় ব্যক্ত হয়েছে। যেমন, সূরা আল-আ‘রাফের ১৩৬ ও ১৩৭ নং আয়াতে, সূরা আল-কাসাসের ৫ নং আয়াতে, সূরা আদ-দোখানের ২৫ থেকে ২৮ নং আয়াতসমূহে এবং সূরা আশ-শু'আরার আলোচ্য ৫৯ নং আয়াতে এ ঘটনা উল্লেখিত হয়েছে।

  60. 60

    فَأَتْبَعُوهُم مُّشْرِقِينَ

    Fa atba'oohum mushriqeen

    অতঃপর তারা সূর্যোদয়কালে তাদের পিছনে এসে পড়ল।

  61. 61

    فَلَمَّا تَرَٰٓءَا ٱلْجَمْعَانِ قَالَ أَصْحَٰبُ مُوسَىٰٓ إِنَّا لَمُدْرَكُونَ

    Falammaa taraaa'al jam'aani qaala as haabu Moosaaa innaa lamudrakoon

    অতঃপর যখন দু‘দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলল, ‘আমরা তো ধরা পড়ে গেলাম!’

  62. 62

    قَالَ كَلَّآ ۖ إِنَّ مَعِىَ رَبِّى سَيَهْدِينِ

    Qaala kallaaa inna ma'iya Rabbee sa yahdeen

    মূসা বললেন, ‘কখনই নয়! আমার সঙ্গে আছেন আমার রব [১]; সত্বর তিনি আমাকে পথনির্দেশ করবেন।’

    [১] পশ্চাদ্ধাবনকারী ফির‘আউনী সৈন্য বাহিনী যখন তাদের সামনে এসে যায়, তখন সমগ্র বনী ইসরাঈল চিৎকার করে উঠল, হায়! আমরা তো ধরা পড়ে গেলাম! আর ধরা পড়ার মধ্যে সন্দেহ ও দেরীই বা কি ছিল, পশ্চাতে অতিবিক্রম সেনাবাহিনী এবং সম্মুখে সমুদ্র-অন্তরায়। এই পরিস্থিতি মূসা ‘আলাইহিস সালামেরও অগোচরে ছিল না। কিন্তু তিনি দৃঢ়তার হিমালয় হয়ে আল্লাহ্‌ তা‘আলার প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি তখনো সজোরে বলেন, كَلاَّ আমরা তো ধরা পড়তে পারি না। إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ আমার সাথে আমার পালনকর্তা আছেন। তিনি আমাদের পথ বলে দেবেন। [দেখুন-কুরতুবী]

  63. 63

    فَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱضْرِب بِّعَصَاكَ ٱلْبَحْرَ ۖ فَٱنفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍۢ كَٱلطَّوْدِ ٱلْعَظِيمِ

    Fa awhainaaa ilaa Moosaaa anidrib bi'asaakal bahra fanfalaqa fakaana kullu firqin kattawdil 'azeem

    অতঃপর আমরা মূসার প্রতি ওহী করলাম যে, আপনার লাঠি দ্বারা সাগরে আঘাত করুন। ফলে তা বিভক্ত প্ৰত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতের মত হয়ে গেল [১];

    [১] অৰ্থাৎ পানি উভয় দিকে খুব উচু উঁচু পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। [কুরতুবী]

  64. 64

    وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ ٱلْءَاخَرِينَ

    Wa azlafnaa sammal aakhareen

    আর আমরা সেখানে কাছে নিয়ে এলাম অন্য দলটিকে,

  65. 65

    وَأَنجَيْنَا مُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُۥٓ أَجْمَعِينَ

    Wa anjainaa Moosaa wa mam ma'ahooo ajma'een

    এবং আমরা উদ্ধার করলাম মূসা ও তার সঙ্গী সকলকে,

  66. 66

    ثُمَّ أَغْرَقْنَا ٱلْءَاخَرِينَ

    Summa aghraqnal aakhareen

    তারপর নিমজ্জিত করলাম অন্য দলটিকে।

  67. 67

    إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ

    Inna fee zaalika la Aayaah; wa maa kaana aksaru hu mu'mineen

    এতে তো অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুমিন নয়।

  68. 68

    وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ

    Wa inna Rabbaka la Huwal 'Azeezur Raheem

    আর আপনার রব, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  69. 69

    وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَٰهِيمَ

    Watlu 'alaihim naba-a Ibraaheem

    আর আপনি তাদের কাছে ইবরাহীমের বৃত্তান্ত বর্ণনা করুন।

  70. 70

    إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَا تَعْبُدُونَ

    Iz qaala li abeehi wa qawmihee maa ta'budoon

    যখন তিনি তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, ‘তোমরা কিসের ইবাদাত করা?’

  71. 71

    قَالُوا۟ نَعْبُدُ أَصْنَامًۭا فَنَظَلُّ لَهَا عَٰكِفِينَ

    Qaaloo na'budu asnaaman fanazallu lahaa 'aakifeen

    তারা বলল, ‘আমরা মূর্তির পূজা করি সুতরাং আমরা নিষ্ঠার সাথে সেগুলোকে আঁকড়ে থাকব।’

  72. 72

    قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ

    Qaala hal yasma'oona kum iz tad'oon

    তিনি বললেন, ‘তোমরা যখন আহ্বান কর তখন তারা তোমাদের আহ্বান শোনে কি?’

  73. 73

    أَوْ يَنفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ

    Aw yanfa'oonakum aw yadurroon

    ‘অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা অপকার করতে পারে?’

  74. 74

    قَالُوا۟ بَلْ وَجَدْنَآ ءَابَآءَنَا كَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ

    Qaaloo bal wajadnaaa aabaaa 'anaa kazaalika yaf'aloon

    তারা বলল, ‘না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত।’

  75. 75

    قَالَ أَفَرَءَيْتُم مَّا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ

    Qaala afara 'aitum maa kuntum ta'budoon

    ইবরাহীম বললেন, ‘তোমরা কি ভাবে দেখেছ, যাদের ‘ইবাদাত তোমরা করে থাক,

  76. 76

    أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُمُ ٱلْأَقْدَمُونَ

    Antum wa aabaaa'ukumul aqdamoon

    ‘তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষরা!

  77. 77

    فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّۭ لِّىٓ إِلَّا رَبَّ ٱلْعَٰلَمِينَ

    Fa innahum 'aduwwwul leee illaa Rabbal 'aalameen

    সৃষ্টিকুলের রব ব্যতীত এরা সবাই তো আমার শত্ৰু।

  78. 78

    ٱلَّذِى خَلَقَنِى فَهُوَ يَهْدِينِ

    Allazee khalaqanee fa Huwa yahdeen

    ‘যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনিই আমাকে হেদায়াত দিয়েছেন।

  79. 79

    وَٱلَّذِى هُوَ يُطْعِمُنِى وَيَسْقِينِ

    Wallazee Huwa yut'imunee wa yasqeen

    আর ‘তিনিই আমাকে খাওয়ান ও পান করান।

  80. 80

    وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ

    Wa izaa mardtu fahuwa yashfeen

    ‘এবং রোগাক্রান্ত হলে তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন [১];

    [১] অর্থাৎ আমি যখন অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন। এখানে লক্ষণীয় ব্যাপার যে, রোগাক্ৰান্ত হওয়াকে ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম তার নিজের দিকে সম্পর্কযুক্ত করেছেন, যদিও আল্লাহ্‌র নির্দেশেই সবকিছু হয়। এটাই হল আল্লাহ্‌র সাথে আদাব বা শিষ্টাচার। [দেখুন-বাগভী, কুরতুবী]

  81. 81

    وَٱلَّذِى يُمِيتُنِى ثُمَّ يُحْيِينِ

    Wallazee yumeetunee summa yuhyeen

    ‘আর তিনিই আমার মৃত্যু ঘটাবেন, তারপর আমাকে পুনর্জীবিত করবেন।

  82. 82

    وَٱلَّذِىٓ أَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لِى خَطِيٓـَٔتِى يَوْمَ ٱلدِّينِ

    Wallazeee atma'u ai yaghfira lee khateee' atee Yawmad Deen

    ‘এবং যার কাছে আশা করি যে, তিনি কিয়ামতের দিন আমার অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন।

  83. 83

    رَبِّ هَبْ لِى حُكْمًۭا وَأَلْحِقْنِى بِٱلصَّٰلِحِينَ

    Rabbi hab lee hukmanw wa alhiqnee bis saaliheen

    ‘হে আমার রব! আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং সৎকর্মশীলদের সাথে মিলিয়ে দিন।

  84. 84

    وَٱجْعَل لِّى لِسَانَ صِدْقٍۢ فِى ٱلْءَاخِرِينَ

    Waj'al lee lisaana sidqin fil aakhireen

    ‘আর আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে যশস্বী করুন [১],

    [১] এ আয়াতের অর্থ এই যে, আল্লাহ্‌ আমাকে এমন সুন্দর তরিকা ও উত্তম নিদর্শন দান করুন, যা কেয়ামত পর্যন্ত মানবজাতি অনুসরণ করে এবং আমাকে উৎকৃষ্ট আলোচনা ও সদগুণাবলী দ্বারা স্মরণ করে। [ফাতহুল কাদীর, বাগভী, কুরতুবী]

  85. 85

    وَٱجْعَلْنِى مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ ٱلنَّعِيمِ

    Waj'alnee minw warasati Jannnatin Na'eem

    ‘এবং আমাকে সুখময় জান্নাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন,

  86. 86

    وَٱغْفِرْ لِأَبِىٓ إِنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ

    Waghfir li abeee innahoo kaana mind daalleen

    ‘আর আমার পিতাকে ক্ষমা করুন, তিনি তো পথভ্রষ্টদের শামিল ছিলেন [১]।

    [১] পবিত্র কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে, مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَىٰ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ ‘‘আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মু’মিনদের জন্য সংগত নয় যখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, নিশ্চিতই তারা জাহান্নামী।” [সূরা আত-তাওবা ১১৩] কুরআনুল করীমের এই ফরমান জারি হওয়ার পর এখন যার মৃত্যু কুফরের উপর নিশ্চিত ও অবধারিত; তার জন্য মাগফেরাতের দো‘আ করা অবৈধ ও হারাম। কিন্তু এ আয়াতে আল্লাহ্‌ তা‘আলা ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালামের দো‘আ উল্লেখ করে বলেছেন: وَاغْفِرْ لِأَبِي إِنَّهُ كَانَ مِنَ الضَّالِّينَ “আর আমার পিতাকে ক্ষমা করে দিন তিনি তো পথভ্রষ্টদের শামিল ছিলেন।” তা থেকে প্রশ্ন দেখা দেয় যে, উপরোক্ত নিষেধাজ্ঞার পর ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম তার মুশরিক পিতার জন্য কেন মাগফেরাতের দো‘আ করলেন? আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন নিজেই কুরআনুল কারীমে এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَن مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِّلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ ۚ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهٌ حَلِيمٌ -অর্থাৎ “ ইবরাহীম তাঁর পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন, তাকে এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে; তারপর যখন এটা তাঁর কাছে সুস্পষ্ট হল যে, সে আল্লাহ্‌র শত্রু তখন ইবরাহীম তার থেকে নিজেকে বিমুক্ত ঘোষণা করলেন। ইবরাহীম তো কোমল হৃদয় ও সহনশীল।” [সূরা আত-তাওবা ১১৪]

  87. 87

    وَلَا تُخْزِنِى يَوْمَ يُبْعَثُونَ

    Wa laa tukhzinee Yawma yub'asoon

    ‘এবং আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না পুনরুত্থানের দিনে [২]

    [২] অর্থাৎ ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম বললেন, ‘হে আমার রব! যেদিন সমস্ত সৃষ্টিজগতকে পুনরুত্থান করা হবে, সেই কেয়ামতের দিন আমাকে লজ্জিত করবেন না।’ হাদীসে এসেছে, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম কেয়ামতের দিন তার পিতা আজরকে তার মুখে ধুলিমলিন কুৎসিত অবস্থায় দেখতে পাবেন। তখন ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম তাকে বলবেন: আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আমার অবাধ্য হবেন না? তখন তার বাবা তাকে বলবেন: আমি আজ তোমার অবাধ্য হব না। তখন ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম বলবেন: হে রব! আপনি আমাকে পুনরুত্থান দিনে লজ্জিত না করার ওয়াদা করেছেন। আমার পিতার ধ্বংসের চেয়ে লজ্জাজনক ব্যাপার আর কি হতে পারে? তখন আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলবেন: আমি কাফেরদের উপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। তারপর বলা হবে: হে ইবরাহীম! আপনার পায়ের নীচে কি? তখন তিনি তাকালে দেখতে পাবেন বিদঘুটে কুৎসিত হায়েনা জাতীয় এক প্রাণী। তখন তার চার পা ধরে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (অর্থাৎ সে এমন ঘৃণিত হবে যে, ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম তার জন্য কথা বলতে চাইবেন না।) [বুখারী ৩৩৫০]

  88. 88

    يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌۭ وَلَا بَنُونَ

    Yawma laa yanfa'u maalunw wa laa banoon

    ‘যে দিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না;

  89. 89

    إِلَّا مَنْ أَتَى ٱللَّهَ بِقَلْبٍۢ سَلِيمٍۢ

    Illaa man atal laaha biqalbin saleem

    ‘সে দিন উপকৃত হবে শুধু সে, যে আল্লাহ্‌র কাছে আসবে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে।’

  90. 90

    وَأُزْلِفَتِ ٱلْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ

    Wa uzlifatil Jannatu lilmuttaqeen

    আর মুত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হবে জান্নাত,

  91. 91

    وَبُرِّزَتِ ٱلْجَحِيمُ لِلْغَاوِينَ

    Wa burrizatil Jaheemu lilghaaween

    এবং পথভ্রষ্টদের জন্য উন্মোচিত করা হবে জাহান্নাম [১];

    [১] অর্থাৎ একদিকে মুত্তাকিরা জান্নাতে প্রবেশ করার আগেই দেখতে থাকবে, আল্লাহ্‌র মেহেরবানীতে কেমন নিয়ামতে পরিপূর্ণ জায়গায় তারা যাবে। অন্যদিকে পথভ্রষ্টরা তখনো হাশরের ময়দানেই অবস্থান করবে। যে জাহান্নামে তাদের গিয়ে থাকতে হবে তার ভয়াবহ দৃশ্য তাদের সামনে উপস্থাপিত করা হবে। [দেখুন-ফাতহুল কাদীর, কুরতুবী]

  92. 92

    وَقِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ

    Wa qeela lahum aina maa kuntum ta'budoon

    তাদেরকে বলা হবে, ‘তারা কোথায়, তোমরা যাদের ‘ইবাদাত করতে---

  93. 93

    مِن دُونِ ٱللَّهِ هَلْ يَنصُرُونَكُمْ أَوْ يَنتَصِرُونَ

    Min doonil laahi hal yansuroonakum aw yantasiroon

    ‘আল্লাহ্‌র পরিবর্তে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে অথবা তারা কি আত্মরক্ষা করতে সক্ষম?’

  94. 94

    فَكُبْكِبُوا۟ فِيهَا هُمْ وَٱلْغَاوُۥنَ

    Fakubkiboo feehaa hum walghaawoon

    অতঃপর তাদেরকে এবং পথ ভ্ৰষ্টকারীদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে অধোমুখী করে [১],

    [১] মূলে كُبْكِبُوا শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি অর্থ নিহিত। এক. একজনের উপর অন্য একজনকে ধাক্কা দিয়ে অধোমুখী করে ফেলে দেয়া হবে। দুই. তারা জাহান্নামের গর্তের তলদেশ পর্যন্ত গড়িয়ে যেতে থাকবে। [দেখুন-কুরতুবী]

  95. 95

    وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ

    Wa junoodu Ibleesa ajma'oon

    এবং ইবলীসের বাহিনীর সকলকেও।

  96. 96

    قَالُوا۟ وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ

    Qaaloo wa hum feehaa yakkhtasimoon

    তারা সেখানে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে বলবে,

  97. 97

    تَٱللَّهِ إِن كُنَّا لَفِى ضَلَٰلٍۢ مُّبِينٍ

    Tallaahi in kunnaa lafee dalaalim mubeen

    ‘আল্লাহ্‌র শপথ! আমরা তো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিলাম,’

  98. 98

    إِذْ نُسَوِّيكُم بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

    Iz nusawweekum bi Rabbil 'aalameen

    ‘যখন আমরা তোমাদেরকে সৃষ্টিকুলের রবের সমকক্ষ গণ্য করতাম।

  99. 99

    وَمَآ أَضَلَّنَآ إِلَّا ٱلْمُجْرِمُونَ

    Wa maaa adallanaaa illal mujrimoon

    ‘আর আমাদেরকে কেবল দুস্কৃতিকারীরাই পথভ্ৰষ্ট করেছিল;

  100. 100

    فَمَا لَنَا مِن شَٰفِعِينَ

    Famaa lanaa min shaa fi'een

    ‘অতএব, আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই।

  101. 101

    وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍۢ

    Wa laa sadeeqin hameem

    এবং কোনো সহৃদয় বন্ধুও নেই।

  102. 102

    فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةًۭ فَنَكُونَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ

    Falaw anna lanaa karratan fanakoona minal mu'mineen

    ‘হায়, যদি আমাদের একবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ ঘটত, তাহলে আমরা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম [১]!’

    [১] এ আকাংখার জবাবও কুরআনের এভাবে দেয়া হয়েছে, “যদি তাদেরকে পূর্ববর্তী জীবনে ফিরিয়ে দেয়া হয় তাহলে তারা তাই করতে থাকবে যা করতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।” [সূরা আল-আন‘আম ২৮]

  103. 103

    إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ

    Inna fee zaalika la Aayatanw wa maa kaana aksaruhum mu'mineen

    এতে তো অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুমিন নয়।

  104. 104

    وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ

    Wa inna Rabbaka la Huwal 'Azeezur Raheem

    আর আপনার রব, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  105. 105

    كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ ٱلْمُرْسَلِينَ

    Kazzabat qawmu Noohinil Mursaleen

    নূহের সম্প্রদায় রাসূলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল।

  106. 106

    إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ

    Iz qaala lahum akhoohum Noohun alaa tattaqoon

    যখন তাদের ভাই নূহ তাদেরকে বলেছিলেন, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না?

  107. 107

    إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ

    Innee lakum Rasoolun ameen

    ‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।

  108. 108

    فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ

    Fattaqullaaha wa atee'oon

    ‘অতএব, তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর [১]।

    [১] আয়াতটি তাকীদ বা গুরুত্ব প্রকাশের জন্য এবং একথা ব্যক্ত করার জন্য আনা হয়েছে যে, রাসূলের আনুগত্য ও আল্লাহ্‌কে ভয় করার জন্য কেবল রাসূলের বিশ্বস্ততা ও ন্যায়পরায়ণতা অথবা কেবল প্রচারকার্যে প্রতিদান না চাওয়াই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু যে রাসূলের মধ্যে সবগুলো গুণই বিদ্যমান আছে, তার আনুগত্য করা ও আল্লাহ্‌কে ভয় করা তো আরো অপরিহার্য হয়ে পড়ে। [ফাতহুল কাদীর]

  109. 109

    وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

    Wa maaa as'alukum 'alaihi min ajrin in ajriya illaa 'alaa Rabbil 'aalameen

    ‘আর আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না; আমার পুরস্কার তো সৃষ্টিকুলের রবের কাছেই আছে।

  110. 110

    فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ

    Fattaqul laaha wa atee'oon

    ‘কাজেই তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর।’

  111. 111

    ۞ قَالُوٓا۟ أَنُؤْمِنُ لَكَ وَٱتَّبَعَكَ ٱلْأَرْذَلُونَ

    Qaalooo anu'minu laka wattaba 'akal arzaloon

    তারা বলল, ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব অথচ ইতরজনেরা তোমার অনুসরণ করছে?’

  112. 112

    قَالَ وَمَا عِلْمِى بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ

    Qaala wa maa 'ilmee bimaa kaanoo ya'maloon

    নূহ বললেন, ‘তারা কী করত তা আমার জানার কি দরকার?’

  113. 113

    إِنْ حِسَابُهُمْ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّى ۖ لَوْ تَشْعُرُونَ

    In hisaabuhum illaa 'alaa Rabbee law tash'uroon

    ‘তাদের হিসেব গ্রহণ তো আমার রবেরই কাজ; যদি তোমরা বুঝতে!

  114. 114

    وَمَآ أَنَا۠ بِطَارِدِ ٱلْمُؤْمِنِينَ

    Wa maaa ana bitaaridil mu'mineen

    আর আমি তো ‘মুমিনদেরকে তাড়িয়ে দেয়ার নই।

  115. 115

    إِنْ أَنَا۠ إِلَّا نَذِيرٌۭ مُّبِينٌۭ

    In ana illaa nazeerum mubeen

    ‘আমি তো শুধু একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।’

  116. 116

    قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَٰنُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمَرْجُومِينَ

    Qaaloo la'il lam tantahi yaa Noohu latakoonanna minal marjoomeen

    তারা বলল, ‘হে নূহ! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও তবে তুমি অবশ্যই পাথরের আঘাতে নিহতদের মধ্যে শামিল হবে।’

  117. 117

    قَالَ رَبِّ إِنَّ قَوْمِى كَذَّبُونِ

    Qaala Rabbi inna qawmee kazzaboon

    নূহ বললেন, ‘হে আমার রব! আমার সম্প্রদায় তো আমার উপর মিথ্যারোপ করেছে।

  118. 118

    فَٱفْتَحْ بَيْنِى وَبَيْنَهُمْ فَتْحًۭا وَنَجِّنِى وَمَن مَّعِىَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ

    Faftab bainee wa bai nahum fat hanw wa najjinee wa mam ma'iya minal mu'mineen

    কাজেই আপনি আমার ও তাদের মধ্যে স্পষ্ট মীমাংসা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সাথে যেসব মুমিন আছে, তাদেরকে রক্ষা করুন [১]।’

    [১] অর্থাৎ নূহ ‘আলাইহিস সালাম দো‘আ করলেন যে, হে আল্লাহ্‌! আপনি আমার ও আমার জাতির মধ্যে ফায়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সাখী ঈমানদারদেরকে রক্ষা করুন। [দেখুন-মুয়াসসার] অন্যান্য সূরাসমূহেও নূহ ‘আলাইহিস সালামের এ দো‘আ এবং আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে তার জবাব উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, সূরা আল-কামার ১০-১8।

  119. 119

    فَأَنجَيْنَٰهُ وَمَن مَّعَهُۥ فِى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ

    Fa anjainaahu wa mamma'ahoo fil fulkil mashhoon

    অতঃপর আমরা তাকে ও তার সঙ্গে যারা ছিল, তাদেরকে রক্ষা করলাম বোঝাই নৌযানে [১]।

    [১] “বোঝাই নৌযান” এর অর্থ হচ্ছে, এ নৌকাটি সকল মু‘মিন ও সকল প্রাণীতে পরিপূর্ণ ছিল। [দেখুন- ফাতহুল কাদীর, সা‘দী] পূর্বেই এ প্রাণীদের এক একটি জোড়া সংগে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এ সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন সূরা হূদ ৪০ আয়াত।

  120. 120

    ثُمَّ أَغْرَقْنَا بَعْدُ ٱلْبَاقِينَ

    Summa aghraqnaa ba'dul baaqeen

    এরপর আমরা বাকী সবাইকে ডুবিয়ে দিলাম।

  121. 121

    إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ

    Inna fee zaalika la Aayaah; wa maa kaana aksaruhum mu'mineen

    এতে তো অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই ঈমানদার নয়।

  122. 122

    وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ

    Wa inna Rabbaka la huwal 'Azeezur Raheem

    আর আপনার রব, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  123. 123

    كَذَّبَتْ عَادٌ ٱلْمُرْسَلِينَ

    Kazzabat 'Aadunil mursaleen

    ‘আদ সম্প্রদায় রাসূলদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল।

  124. 124

    إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ هُودٌ أَلَا تَتَّقُونَ

    Iz qaala lahum akhoohum Hoodun alaa tattaqoon

    যখন তাদের ভাই হূদ তাদেরকে বললেন, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না?

  125. 125

    إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ

    Innee lakum Rasoolun ameen

    ‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।

  126. 126

    فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ

    Fattaqullaaha wa atee'oon

    ‘অতএব, তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর।

  127. 127

    وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

    Wa maa as'alukum 'alaihi min ajrin in ajriya illaa 'alaa Rabbil 'aalameen

    ‘আর আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না, আমার পুরস্কার তো সৃষ্টিকুলের রবের কাছেই।

  128. 128

    أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ ءَايَةًۭ تَعْبَثُونَ

    Atabnoona bikulli ree'in aayatan ta'basoon

    ‘তোমরা কি প্রতিটি উচ্চ স্থানে [১] স্তম্ভ নির্মাণ করছ নিরর্থক [২]?

    [১] ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার মতে رِيعٍ উচ্চ স্থানকে বলা হয়। মুজাহিদ ও অনেক তাফসীরবিদের মতে رِيعٍ দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী পথকে বলা হয়। [কুরতুবী] [২] ايَةً এর আসল অর্থ নিদর্শন। এস্থলে সুউচ্চ স্মৃতিসৌধ বোঝানো হয়েছে। تَعۡبَثُونَ শব্দটি عبث থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ অযথা বা যাতে কোনো প্রকার উপকার নেই। এখানে অর্থ এই যে, তারা অযথা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণ করত, যার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এতে শুধু গৰ্ব করাই উদ্দেশ্য থাকত। [ইবন কাসীর]

  129. 129

    وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ

    Wa tattakhizoona masaani'a la'allakum takhludoon

    ‘আর তোমরা প্রাসাদসমূহ [১] নির্মাণ করছ যেন তোমরা স্থায়ী হবে [২]।

    [১] مَصَانِعَ শব্দটি مِصْنَعٌ এর বহুবচন। কাতাদাহ বলেন, مَصَانِعَ বলে পানির চৌবাচ্চা বোঝানো হয়েছে; কিন্তু মুজাহিদ বলেন যে, এখানে সুদৃঢ় প্রাসাদ বোঝানো হয়েছে। [ইবন কাসীর] [২] لَعَكَّكُمْ تَخْلُدُوْنَ ইমাম বুখারী সহীহ বুখারীতে বর্ণনা করেন যে, এখানে لعل শব্দটি تشبيه অর্থাৎ উদাহরণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ইবন আব্বাস এর অনুবাদে বলেন, كَأَنَّكُمْ تَخْلُدُوْنَ -অর্থাৎ যেন তোমরা চিরকাল থাকবে। [কুরতুবী]

  130. 130

    وَإِذَا بَطَشْتُم بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ

    Wa izaa batashtum batashtum jabbaareen

    আর যখন তোমরা আঘাত হান তখন আঘাত হেনে থাক স্বেচ্ছাচারী হয়ে।

  131. 131

    فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ

    Fattaqul laaha wa atee'oon

    সুতরাং তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর।

  132. 132

    وَٱتَّقُوا۟ ٱلَّذِىٓ أَمَدَّكُم بِمَا تَعْلَمُونَ

    Wattaqul lazeee amad dakum bimaa ta'lamoon

    আর তোমরা তাঁর তাকওয়া অবলম্বন কর যিনি তোমাদেরকে দান করেছেন সে সমুদয়, যা তোমরা জান।

  133. 133

    أَمَدَّكُم بِأَنْعَٰمٍۢ وَبَنِينَ

    Amaddakum bi an'aa minw wa baneen

    তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন চতুস্পদ জন্তু ও পুত্ৰ সন্তান,

  134. 134

    وَجَنَّٰتٍۢ وَعُيُونٍ

    Wa jannaatinw wa 'uyoon

    এবং উদ্যান ও প্রস্রবণ;

  135. 135

    إِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍۢ

    Innee akhaafu 'alaikum 'azaaba Yawmin 'azeem

    ‘আমি তো তোমাদের জন্য আশংকা করি মহাদিনের শাস্তির।’

  136. 136

    قَالُوا۟ سَوَآءٌ عَلَيْنَآ أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُن مِّنَ ٱلْوَٰعِظِينَ

    Qaaloo sawaaa'un 'alainaaa awa 'azta am lam takum minal waa'izeen

    তারা বলল, ‘তুমি উপদেশ দাও বা না-ই দাও, উভয়ই আমাদের জন্য সমান।

  137. 137

    إِنْ هَٰذَآ إِلَّا خُلُقُ ٱلْأَوَّلِينَ

    In haazaaa illaa khuluqul awwaleen

    ‘এটা তো কেবল পূর্ববর্তীদেরই স্বভাব।

  138. 138

    وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ

    Wa maa nahnu bimu 'azzabeen

    ‘আমরা মোটেই শাস্তিপ্রাপ্ত হবো না।’

  139. 139

    فَكَذَّبُوهُ فَأَهْلَكْنَٰهُمْ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ

    Fakazzaboohu fa ahlaknaahum; inna fee zaalika la aayah; wa maa kaana aksaruhum mu'mineen

    সুতরাং তারা তার প্রতি মিথ্যারোপ করল ফলে আমরা তাদেরকে ধ্বংস করলাম। এতে তো অবশ্যই আছে নিদর্শন; কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুমিন নয় [১]।

    [১] আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেছেন যে, তারা তাদের নবী হুদ আলাইহিস সালামের উপর মিথ্যারোপ করেছিল, ফলে আল্লাহ্‌ তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। [ইবন কাসীর]

  140. 140

    وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ

    Wa inna Rabbaka la huwal 'Azeezur Raheem

    আর আপনার রব, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  141. 141

    كَذَّبَتْ ثَمُودُ ٱلْمُرْسَلِينَ

    Kazzabat Samoodul mursaleen

    সামূদ সম্প্রদায় রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল।

  142. 142

    إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ صَٰلِحٌ أَلَا تَتَّقُونَ

    Iz qaala lahum akhoohum Saalihun alaa tattaqoon

    যখন তাদের ভাই সালিহ তাদেরকে বললেন, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না?

  143. 143

    إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ

    Innee lakum Rasoolun ameen

    ‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।

  144. 144

    فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ

    Fattaqul laaha wa atee'oon

    সুতরাং তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর,

  145. 145

    وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

    Wa maaa as'alukum 'alaihi min ajrin in ajriya illaa 'alaa Rabbil 'aalameen

    ‘আর আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো সৃষ্টিকুলের রবের কাছেই আছে।

  146. 146

    أَتُتْرَكُونَ فِى مَا هَٰهُنَآ ءَامِنِينَ

    Atutrakoona fee maa haahunnaaa aamineen

    ‘তোমাদেরকে কি নিরাপদ অবস্থায় ছেড়ে রাখা হবে, যা এখানে আছে তাতে-

  147. 147

    فِى جَنَّٰتٍۢ وَعُيُونٍۢ

    Fee jannaatinw wa 'uyoon

    ‘উদ্যানে, প্রস্রবণে

  148. 148

    وَزُرُوعٍۢ وَنَخْلٍۢ طَلْعُهَا هَضِيمٌۭ

    Wa zuroo inw wa nakhlin tal 'uhaa hadeem

    ‘ও শস্যক্ষেত্রে এবং সুকোমল গুচ্ছ বিশিষ্ট খেজুর বাগানে?

  149. 149

    وَتَنْحِتُونَ مِنَ ٱلْجِبَالِ بُيُوتًۭا فَٰرِهِينَ

    Wa tanhitoona minal jibaali buyootan faariheen

    ‘আর তোমরা নৈপুণ্যের সাথে পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ করছ।

  150. 150

    فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ

    Fattaqul laaha wa atee'oon

    সুতরাং তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর

  151. 151

    وَلَا تُطِيعُوٓا۟ أَمْرَ ٱلْمُسْرِفِينَ

    Wa laa tutee'ooo amral musrifeen

    আর তোমরা সীমালংঘনকারীদের নির্দেশের আনুগত্য করো না;

  152. 152

    ٱلَّذِينَ يُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ

    Allazeena yufsidoona fil ardi wa laa yuslihoon

    ‘যারা যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং সংশোধন করে না।’

  153. 153

    قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلْمُسَحَّرِينَ

    Qaalooo innamaa anta minal musahhareen

    তারা বলল, ‘তুমি তো জাদুগ্ৰস্তাদের অন্যতম।

  154. 154

    مَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٌۭ مِّثْلُنَا فَأْتِ بِـَٔايَةٍ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ

    Maaa anta illaa basharum mislunaa faati bi Aayatin in kunta minas saadiqeen

    ‘তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ, কাজেই তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে একটি নিদর্শন উপস্থিত কর।’

  155. 155

    قَالَ هَٰذِهِۦ نَاقَةٌۭ لَّهَا شِرْبٌۭ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍۢ مَّعْلُومٍۢ

    Qaala haazihee naaqatul lahaa shirbunw w alakum shirbu yawmim ma'loom

    সালিহ বললেন, ‘এটা একটা উষ্ট্ৰী, এর জন্য আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্য আছে নির্ধারিত দিনে পানি পানের পালা;

  156. 156

    وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوٓءٍۢ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَظِيمٍۢ

    Wa laa tamassoohaa bisooo'in fa yaakhuzakum 'azaabu Yawmin 'Azeem

    ‘আর তোমরা এর কোনো অনিষ্ট সাধন করো না; করলে মহাদিনের শাস্তি তোমাদের উপর আপতিত হবে।’

  157. 157

    فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُوا۟ نَٰدِمِينَ

    Fa'aqaroohaa fa asbahoo naadimeen

    অতঃপর তারা সেটাকে হত্যা করল, পরিণামে তারা অনুতপ্ত হল।

  158. 158

    فَأَخَذَهُمُ ٱلْعَذَابُ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ

    Fa akhazahumul 'azaab; inna fee zaalika la Aayah; wa maa kaana aksaruhum m'mineen

    অতঃপর শাস্তি তাদেরকে গ্ৰাস করল। এতে অবশ্যই রয়েছে নিদর্শন, কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুমিন নয়।

  159. 159

    وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ

    Wa inna Rabbaka la Huwal 'Azeezur Raheem

    আর আপনার রব, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  160. 160

    كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍ ٱلْمُرْسَلِينَ

    kazzabat qawmu Lootinil mursaleen

    লূতের সম্প্রদায় রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল,

  161. 161

    إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَ

    Iz qaala lahum akhoohum Lootun alaa tattaqoon

    যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বললেন, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না?

  162. 162

    إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ

    Innee lakum rasoolun ameen

    ‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।

  163. 163

    فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ

    Fattaqul laaha wa atee'oon

    ‘কাজেই তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর।

  164. 164

    وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

    Wa maaa as'alukum 'alaihi min ajrin in ajriya illaa 'alaa Rabbil 'aalameen

    ‘আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো সৃষ্টিকুলের রবের কাছেই আছে।

  165. 165

    أَتَأْتُونَ ٱلذُّكْرَانَ مِنَ ٱلْعَٰلَمِينَ

    Ataatoonaz zukraana minal 'aalameen

    ‘সৃষ্টিকুলের মধ্যে তো তোমরাই কি পুরুষের সাথে উপগত হও?

  166. 166

    وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُم مِّنْ أَزْوَٰجِكُم ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ

    Wa tazaroona maa khalaqa lakum Rabbukum min azwaajikum; bal antum qawmun 'aadoon

    ‘আর তোমাদের রব তোমাদের জন্য যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে তোমরা বর্জন করে থাক। বরং তোমরা তো এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’

  167. 167

    قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَٰلُوطُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُخْرَجِينَ

    Qaloo la'il lam tantahi yaa Lootu latakoonanna minal mukhrajeen

    তারা বলল, ‘হে লূত! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও, তবে অবশ্যই তুমি নির্বাসিত হবে।’

  168. 168

    قَالَ إِنِّى لِعَمَلِكُم مِّنَ ٱلْقَالِينَ

    Qaala innee li'amalikum minal qaaleen

    লূত বললেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের এ কাজের ঘৃণাকারী।

  169. 169

    رَبِّ نَجِّنِى وَأَهْلِى مِمَّا يَعْمَلُونَ

    Rabbi najjjinee wa ahlee mimmmaa ya'maloon

    ‘হে আমার রব! আমাকে এবং আমার পরিবার-পরিজনকে, তারা যা করে তা থেকে রক্ষা করুন।’

  170. 170

    فَنَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ أَجْمَعِينَ

    Fanajjainaahu wa ahlahooo ajma'een

    তারপর আমরা তাকে এবং তার পরিবার-পরিজনকে সকলকে রক্ষা করলাম।

  171. 171

    إِلَّا عَجُوزًۭا فِى ٱلْغَٰبِرِينَ

    Illaa 'ajoozan filghaabireen

    এক বৃদ্ধা ছাড়া [১], যে ছিল পিছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

    [১] এখানে عَخُوز বলে লূত ‘আলাইহিস সালামের স্ত্রীকে বোঝানো হয়েছে। সে কওমে লূতের এই কুকর্মে সম্মত ছিল এবং কাফের ছিল। সূরা আত-তাহরীমে নূহ ও লুত আলাইহিমাস সালামের স্ত্রীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: “এ মহিলা দু’টি আমার দু’জন সৎ বান্দার গৃহে ছিল। কিন্তু তারা তাঁদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।” [সূরা আত-তাহরীম ১০] অর্থাৎ তারা উভয়ই ছিল ঈমান শূন্য এবং নিজেদের সৎ স্বামীদের সাথে সহযোগিতা করার পরিবর্তে তারা তাদের কাফের জাতির সহযোগী হয়। এজন্য আল্লাহ্‌ যখন লূতের জাতির উপর আযাব নাযিল করার ফায়সালা করলেন এবং লূতকে নিজের পরিবার-পরিজনদের নিয়ে এ এলাকা ত্যাগ করার হুকুম দিলেন তখন সাথে সাথে নিজের স্ত্রীকে সংগে না নেয়ার হুকুমও দিলেন: “কাজেই কিছু রাত থাকতেই আপনি নিজের পরিবার-পরিজনদেরকে সাথে নিয়ে বের হয়ে যান এবং আপনাদের কেউ যেন পেছন ফিরে না তাকায়। কিন্তু আপনার স্ত্রীকে সংগে করে নিয়ে যাবেন না। তাদের ভাগ্যে যা ঘটবে তারও তাই ঘটবে।’’ [সূরা হূদ ৮১]

  172. 172

    ثُمَّ دَمَّرْنَا ٱلْءَاخَرِينَ

    Summa dammarnal aa khareen

    তারপর আমরা অপর সকলকে ধ্বংস করলাম।

  173. 173

    وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًۭا ۖ فَسَآءَ مَطَرُ ٱلْمُنذَرِينَ

    Wa amtarnaa 'alaihim mataran fasaaa'a matarul munzareen

    আর আমরা তাদের উপর শাস্তি মূলক বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম, ভীতি প্রদর্শিতদের জন্য এ বৃষ্টি ছিল কত নিকৃষ্ট [১]!

    [১] কোনো কোনো মুফাসসিরের মতে, এ বৃষ্টি বলতে এখানে পানির বৃষ্টি বুঝানো হয়নি, বরং পাথর বৃষ্টির কথা বুঝানো হয়েছে। [দেখুন-তবারী, মুয়াসসার]

  174. 174

    إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ

    Inna fee zaalika la Aayah; wa maa kaana aksaruhum mu'mineen

    এতে তো অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুমিন নয়।

  175. 175

    وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ

    Wa inna Rabbaka la Huwal 'Azeezur Raheem

    আর আপনার রব, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  176. 176

    كَذَّبَ أَصْحَٰبُ لْـَٔيْكَةِ ٱلْمُرْسَلِينَ

    Kazzaba As haabul Aykatil mursaleen

    আইকাবাসীরা [১] রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল,

    [১] ইউসুফ ‘আলাইহিস সালামের পরে আল্লাহ্‌ তা‘আলা শু‘আইব ‘আলাইহিস সালামকে পাঠান। তার জাতি ছিল মাদইয়ান জাতি। [সূরা আল-আ‘রাফ ৮৫] মাদইয়ান ছিল শু‘আইব ‘আলাইহিস সালামের জাতির এক পূর্বপুরুষের নাম। অপরদিকে কখনো কখনো পবিত্ৰ কুরআনে শুয়াইব ‘আলাইহিস সালামের কওম সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আসহাবুল আইকাহ’ বা গাছওয়ালাগণ। [সূরা আশ-শুয়ারা ১৭৬] অধিকাংশ মুফাসসিরদের মতে আইকাবাসী দ্বারা মাদইয়ান জাতিকে বুঝানো হয়েছে। [আদওয়া আল-বায়ান]

  177. 177

    إِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلَا تَتَّقُونَ

    Iz qaala lahum Shu'aybun alaa tattaqoon

    যখন শু‘আইব তাদেরকে বলেছিলেন, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না?

  178. 178

    إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ

    Innee lakum Rasoolun ameen

    আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।

  179. 179

    فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ

    Fattaqul laaha wa atee'oon

    ‘কাজেই তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর।

  180. 180

    وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

    Wa maaa as'alukum 'alaihi min ajrin in ajriya illaa 'alaa Rabbil 'aalameen

    ‘আর আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না। আমার পুরস্কার তো সৃষ্টিকুলের রবের কাছেই আছে।

  181. 181

    ۞ أَوْفُوا۟ ٱلْكَيْلَ وَلَا تَكُونُوا۟ مِنَ ٱلْمُخْسِرِينَ

    Awful kaila wa laa takoonoo minal mukhsireen

    ‘মাপে পূর্ণ মাত্রায় দেবে; আর যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না

  182. 182

    وَزِنُوا۟ بِٱلْقِسْطَاسِ ٱلْمُسْتَقِيمِ

    Wa zinoo bilqistaasil mustaqeem

    ‘এবং ওজন করবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়।

  183. 183

    وَلَا تَبْخَسُوا۟ ٱلنَّاسَ أَشْيَآءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا۟ فِى ٱلْأَرْضِ مُفْسِدِينَ

    Wa laa tabkhasun naasa ashyaaa 'ahum wa laa ta'saw fil ardi mufsideen

    ‘আর লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িও না।

  184. 184

    وَٱتَّقُوا۟ ٱلَّذِى خَلَقَكُمْ وَٱلْجِبِلَّةَ ٱلْأَوَّلِينَ

    Wattaqul lazee khalaqakum waljibillatal awwaleen

    আর তাঁর তাকওয়া অবলম্বন কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের আগে যারা গত হয়েছে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।’

  185. 185

    قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلْمُسَحَّرِينَ

    Qaalooo innamaa anta minal musahhareen

    তারা বলল, ‘তুমি তো জাদুগ্ৰস্তাদের অন্তর্ভুক্ত;

  186. 186

    وَمَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٌۭ مِّثْلُنَا وَإِن نَّظُنُّكَ لَمِنَ ٱلْكَٰذِبِينَ

    Wa maaa anta illaa basharum mislunaa wa innazunnuka laminal kaazibeen

    ‘আর তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ, আমরা তো তোমাকে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি।

  187. 187

    فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًۭا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ

    Fa asqit 'alainaa kisafam minas samaaa'i in kunta minas saadiqeen

    ‘সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আকাশের এক খণ্ড আমাদের উপর ফেলে দাও।’

  188. 188

    قَالَ رَبِّىٓ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ

    Qaala Rabbeee a'lamu bimaa ta'maloon

    তিনি বললেন, ‘আমার রব ভাল করে জানেন তোমরা যা কর।’

  189. 189

    فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمْ عَذَابُ يَوْمِ ٱلظُّلَّةِ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ

    Fakazzaboohu fa akhazahum 'azaabu Yawmiz zullah; innahoo kaana 'azaaba Yawmin 'Azeem

    সুতরাং তারা তার প্রতি মিথ্যারোপ করল, ফলে তাদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিনের শাস্তি গ্রাস করল [১]। এ তো ছিল এক ভীষণ দিনের শাস্তি!

    [১] এই আয়াতের ঘটনা এই যে, আল্লাহ্‌ তা‘আলা এই সম্প্রদায়ের উপর তীব্র গরম চাপিয়ে দেন। ফলে তারা গৃহের ভেতরে ও বাইরে কোথাও শান্তি পেত না। এরপর তিনি তাদের নিকটবর্তী এক মাঠের উপর গাঢ় কালো মেঘ প্রেরণ করেন। এই মেঘের নীচে সুশীতল বায়ু ছিল। গরমে অস্থির সম্প্রদায় দৌড়ে দৌড়ে এই মেঘের নীচে জমায়েত হয়ে গেল, তখন তাদের উপর আল্লাহ্‌র সুনির্ধারিত শাস্তি এসে গেল। আর তাতে তারা সবাই ধ্বংস হয়ে গেল। [মুয়াসসার]

  190. 190

    إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ

    Inna fee zaalika la Aayah; wa maa kaana aksaruhum mu'mineen

    এতে তো অবশ্যই রয়েছে নিদর্শন [১], আর তাদের অধিকাংশই মুমিন নয়।

    [১] শু‘আইব ‘আলাইহিস সালামের জাতির ধ্বংসের কথা পবিত্র কুরআনে বিভিন্নভাবে এসেছে। এর কারণ হল, শু‘আইব ‘আলাইহিস সালামের জাতির অপরাধ ছিল বিভিন্ন প্রকার। প্রত্যেক প্রকার অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি হয়েছিল। সুতরাং আল্লাহ্‌ তা‘আলা যখন তাদের কোনো অপরাধের কথা উল্লেখ করেছেন, তখন সেখানে সে অপরাধ মোতাবেক শাস্তির কথাও উল্লেখ করেছেন। যেমন সূরা আশ-শু‘আরায় এসেছে, তারা বলেছিল: তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আমাদের জন্য আকাশের টুকরা ফেলে দাও। এর জবাবে আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাদের শাস্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, তাদেরকে ছায়ার দিনে শাস্তি পেয়ে বসল। [সূরা আশ-শু‘আরা ১৮৯] যা তাদের দাবীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূরা আল-আ‘রাফের ৮৮ নং আয়াতে তারা শু‘আইব ‘আলাইহিস সালাম ও তার সাথীদেরকে এমন ভয় দেখাল যে, তারা কেঁপে উঠেছিল। তারা বলেছিল: “হে শু‘আইব! আমরা তোমাকে এবং যারা তোমার উপর ঈমান এনেছে তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের দলে ফিরে আসবে।” তাদের এ কথার জবাবে আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাদের শাস্তির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “তাদেরকে পেয়ে বসল কম্পন।” [সূরা আল-আ‘রাফ ৯১] কিন্তু সূরা হূদের ৮৭ নং আয়াতে তারা শু‘আইব ‘আলাইহিস সালামের সালাত নিয়ে ঠাট্টা করে তাকে অপমান করেছিল। সে ঠাট্টার জবাবে আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাদের শাস্তি হিসাবে বলেছেন, “তাদেরকে পেয়ে বসল চিৎকার।” [সূরা হুদ ৯৪]

  191. 191

    وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ

    Wa inna Rabbaka la huwal 'Azeezur Raheem

    আর আপনার রব, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  192. 192

    وَإِنَّهُۥ لَتَنزِيلُ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

    Wa innahoo latanzeelu Rabbil 'aalameen

    আর নিশ্চয় এটা (আল-কুরআন) সৃষ্টিকুলের রব হতে নাযিলকৃত।

  193. 193

    نَزَلَ بِهِ ٱلرُّوحُ ٱلْأَمِينُ

    Nazala bihir Roohul Ameen

    বিশ্বস্ত রূহ (জিবরাঈল) তা নিয়ে নাযিল হয়েছেন।

  194. 194

    عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ ٱلْمُنذِرِينَ

    'Alaa qalbika litakoona minal munzireen

    আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

  195. 195

    بِلِسَانٍ عَرَبِىٍّۢ مُّبِينٍۢ

    Bilisaanin 'Arabiyyim mubeen

    সুস্পষ্ট আরবী ভাষায় [১]।

    [১] আয়াত থেকে জানা গেল যে, আরবী ভাষায় লিখিত কুরআনই কুরআন। অন্য যে কোনো ভাষায় কুরআনের কোনো বিষয়বস্তুর অনুবাদকে কুরআন বলা হবে না। [দেখুন- ইবন কাসীর]

  196. 196

    وَإِنَّهُۥ لَفِى زُبُرِ ٱلْأَوَّلِينَ

    Wa innahoo lafee Zuburil awwaleen

    আর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে অবশ্যই এর উল্লেখ আছে।

  197. 197

    أَوَلَمْ يَكُن لَّهُمْ ءَايَةً أَن يَعْلَمَهُۥ عُلَمَٰٓؤُا۟ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ

    Awalam yakul lahum Aayatan ai ya'lamahoo 'ulamaaa'u Baneee Israaa'eel

    বনী ইসরাইলের আলেমগণ এ সম্পর্কে জানে---এটা কি তাদের জন্য নিদর্শন নয় [১]?

    [১] অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের আলেমরা একথা জানে যে, কুরআন মজীদে যে শিক্ষা দেয়া হয়েছে তা ঠিক সেই একই শিক্ষা যা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলোতে দেয়া হয়েছিল। মক্কাবাসীরা কিতাবের জ্ঞান না রাখলেও আশেপাশের এলাকায় বনী ইসরাঈলের বিপুল সংখ্যক আলেম ও বিদ্বান রয়েছে। তারা জানে, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ আজ প্রথমবার তাদের সামনে কোনো অভিনব ও অদ্ভুত “কথা” রাখেননি বরং হাজার হাজার বছর থেকে আল্লাহ্‌র নবীগণ এই একই কথা বারবার এনেছেন। এ নাযিলকৃত বিষয়ও সেই একই রব্বুল আলমীনের পক্ষ থেকে এসেছে যিনি পূর্ববর্তী কিতাবগুলো নাযিল করেছিলেন, এ কথাটি কি এ বিষয়ে নিশ্চিন্ততা অর্জন করার জন্য যথেষ্ট নয়? [দেখুন-ফাতহুল কাদীর]

  198. 198

    وَلَوْ نَزَّلْنَٰهُ عَلَىٰ بَعْضِ ٱلْأَعْجَمِينَ

    Wa law nazzalnaahu 'alaa ba'dil a'jameen

    আর আমরা যদি এটা কোনো অনারবের উপর নাযিল করতাম

  199. 199

    فَقَرَأَهُۥ عَلَيْهِم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ مُؤْمِنِينَ

    Faqara ahoo 'alaihim maa kaanoo bihee mu'mineen

    এবং এটা সে তাদের কাছে পাঠ করত, তবে তারা তাতে ঈমান আনত না;

  200. 200

    كَذَٰلِكَ سَلَكْنَٰهُ فِى قُلُوبِ ٱلْمُجْرِمِينَ

    Kazaalika salaknaahu fee quloobil mujrimeen

    এভাবে আমরা সেটা অপরাধীদের অন্তরে সঞ্চার করেছি [১]।

    [১] এ আয়াতের কাছাকাছি আয়াত সূরা আল-হিজরের ১২ নং আয়াতেও এসেছে। সেখানে এর অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। মূলতঃ অনেকেই এর অর্থ এভাবে বর্ণনা করেছেন: “আমরা এভাবে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করা, কুফরী করা, অস্বীকার করা এবং সীমালঙ্ঘন করাকে অপরাধীদের অন্তরে প্রবেশ করিয়ে দেই, তারা হক্ক এর প্রতি ঈমান আনবে না।” আরবী ভাষায় سلك শব্দের অর্থ হচ্ছে কোনো জিনিসকে অন্য জিনিসের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া, অনুপ্রবেশ করানো, চালিয়ে দেয়া বা গলিয়ে দেয়া। যেমন সুঁইয়ের ছিদ্রে সূতো গলিয়ে দেয়া হয়। কাজেই এ আয়াতের অর্থ এটাও হতে পারে যে, অপরাধীদের অন্তরে এ কুরআন বারুদের মত আঘাত করে এবং তা শুনে তাদের মনে এমন আগুন জ্বলে ওঠে যেন মনে হয় একটি গরম শলাকা তাদের বুকে বিদ্ধ হয়ে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়েছে। সুতরাং তারা এটা সহ্য করতে পারবে না, এর উপর ঈমানও আনবে না। [দেখুন-ফাতহুল কাদীর]

  201. 201

    لَا يُؤْمِنُونَ بِهِۦ حَتَّىٰ يَرَوُا۟ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَلِيمَ

    Laa yu'minoona bihee hattaa yarawul 'azaabal aleem

    তারা এতে ঈমান আনবে না যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেখতে পাবে;

  202. 202

    فَيَأْتِيَهُم بَغْتَةًۭ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ

    Fayaatiyahum baghtatanw wa hum laa yash'uroon

    সুতরাং তা তাদের কাছে এসে পড়বে হঠাৎ করে; অথচ তারা কিছুই উপলব্ধি করতে পারবে না।

  203. 203

    فَيَقُولُوا۟ هَلْ نَحْنُ مُنظَرُونَ

    Fa yaqooloo hal nahnu munzaroon

    তখন তারা বলবে, ‘আমাদেরকে কি অবকাশ দেয়া হবে?’

  204. 204

    أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ

    Aafabi 'azaabinaa yasta'jiloon

    তারা কি তবে আমাদের শাস্তি ত্বরান্বিত করতে চায়?

  205. 205

    أَفَرَءَيْتَ إِن مَّتَّعْنَٰهُمْ سِنِينَ

    Aara'aita im matta'naahum sineen

    আপনি ভেবে দেখুন, যদি আমরা তাদেরকে দীর্ঘকাল ভোগ-বিলাস করতে দেই [১],

    [১] এ আয়াতে ইঙ্গিত আছে যে, দুনিয়াতে দীর্ঘ জীবন লাভ করাও আল্লাহ্‌ তা‘আলার একটি নেয়ামত। কিন্তু যারা এই নেয়ামতের না-শোকরী করে, বিশ্বাস স্থাপন করে না, তাদের দীর্ঘ জীবনের নিরাপত্তা ও অবকাশ কোনো কাজে আসবে না। আর এজন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক হাদীসে এসেছে, তিনি বলেছেন, কিয়ামতের দিন কাফেরকে নিয়ে এসে জাহান্নামে এক প্রকার চুবিয়ে আনার পর তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কি তোমার জীবনে কখনো ভাল কিছু পেয়েছ? সে বলবে: হে প্ৰভূ! আপনার শপথ, কখনো পাইনি। অপরদিকে দুনিয়ার সবচেয়ে দূৰ্ভাগা ব্যাক্তিকে নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে তুমি কি দুনিয়াতে কখনো কষ্ট পেয়েছ? সে বলবে, আপনার শপথ, হে আমার প্রভূ! কখনো নয়। [মুসলিম ২৮০৭]

  206. 206

    ثُمَّ جَآءَهُم مَّا كَانُوا۟ يُوعَدُونَ

    Summa jaaa'ahum maa kaanoo yoo'adoon

    তারপর তাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল তা তাদের কাছে এসে পড়ে,

  207. 207

    مَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يُمَتَّعُونَ

    Maaa aghnaaa 'anhum maa kaanoo yumaatoo'oon

    তখন যা তাদের ভোগ-বিলাসের উপকরণ হিসেবে দেয়া হয়েছিল তা তাদের কি উপকারে আসবে?

  208. 208

    وَمَآ أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا لَهَا مُنذِرُونَ

    Wa maaa ahlaknaa min qaryatin illaa lahaa munziroon

    আর আমরা এমন কোনো জনপদ ধ্বংস করিনি যার জন্য সতর্ককারী ছিল না [১];

    [১] অর্থাৎ আমি কোনো জনপদ ধ্বংস করে দেয়ার পূর্বে সতর্ককারী ছিল, তাদের স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য, আমি যালেম নই। আল্লাহ্‌ তা‘আলা বিনা অপরাধে কাউকে শাস্তি দেন না। সে জন্য তিনি যুগে যুগে সতর্ককারী নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। [দেখুন-মুয়াসসার] অনুরূপ আয়াত আরো দেখুন- সূরা আল-ইসরা ১৫, সূরা আল-কাসাস ৫৯]

  209. 209

    ذِكْرَىٰ وَمَا كُنَّا ظَٰلِمِينَ

    Zikraa wa maa kunnaa zaalimeen

    (তাদের জন্য) স্মরণ হিসেবে, আর আমরা যুলুমকারী নই,

  210. 210

    وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ ٱلشَّيَٰطِينُ

    Wa maa tanazzalat bihish Shayaateen

    আর শয়তানরা এটাসহ নাযিল হয়নি।

  211. 211

    وَمَا يَنۢبَغِى لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُونَ

    Wa maa yambaghee lahum wa maa yastatee'oon

    আর তারা এ কাজের যোগ্যও নয় এবং তারা এর সামর্থ্যও রাখে না।

  212. 212

    إِنَّهُمْ عَنِ ٱلسَّمْعِ لَمَعْزُولُونَ

    Innahum 'anis sam'i lama'zooloon

    তাদেরকে তো শোনার সুযোগ হতে দূরে রাখা হয়েছে।

  213. 213

    فَلَا تَدْعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ فَتَكُونَ مِنَ ٱلْمُعَذَّبِينَ

    Falaa tad'u ma'al laahi ilaahan aakhara fatakoona minal mu'azzabeen

    অতএব আপনি অন্য কোনো ইলাহকে আল্লাহ্‌র সাথে ডাকবেন না, ডাকলে আপনি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

  214. 214

    وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ ٱلْأَقْرَبِينَ

    Wa anzir 'asheeratakal aqrabeen

    আর আপনার নিকটস্থ জ্ঞাতি-গোষ্ঠীকে সতর্ক করুন।

  215. 215

    وَٱخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ

    Wakhfid janaahaka limanit taba 'aka minal mu'mineen

    এবং যারা আপনার অনুসরণ করে সেসব মুমিনদের প্রতি আপনার পক্ষপুট অবনত করে দিন।

  216. 216

    فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّى بَرِىٓءٌۭ مِّمَّا تَعْمَلُونَ

    Fa in asawka faqul innee bareee'um mimmmaa ta'maloon

    অতঃপর তারা যদি আপনার অবাধ্য হয় তাহলে আপনি বলুন, ‘তোমরা যা কর নিশ্চয় আমি তা থেকে দায়মুক্ত।’

  217. 217

    وَتَوَكَّلْ عَلَى ٱلْعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ

    Wa tawakkal alal 'Azeezir Raheem

    আর আপনি নির্ভর করুন পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু আল্লাহ্‌র উপর,

  218. 218

    ٱلَّذِى يَرَىٰكَ حِينَ تَقُومُ

    Allazee yaraaka heena taqoom

    যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি দাঁড়ান [১],

    [১] এ আয়াতের তাফসীরে কয়েকটি বর্ণনা এসেছে- (এক) আপনি একমাত্র আল্লাহ্‌র উপরই ভরসা করুন যিনি আপনার হেফাজত করবেন, আপনার সাহায্য-সহযোগিতা করবেন। যেমনটি অন্য আয়াতে বলা হয়েছে- “আপনি আপনার প্রভূর নির্দেশের উপর ধৈর্য ধারণ করুন, কারণ আপনি আমাদের হেফাজতে রয়েছেন। আমাদের চক্ষুর সামনেই আছেন। [সূরা আত-তূর ৪৮] (দুই) ইবন আব্বাস বলেন, যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি সালাতে দাঁড়ান। (তিন) ইকরামা বলেন, যিনি তার কিয়াম, রুকূ‘, সাজদা ও বসা দেখেন। (চার) কাতাদাহ বলেন, সালাতে দেখেন, যখন একা সালাত আদায় করেন এবং যখন জামা‘আতে অন্যদের সাথে সালাত আদায় করেন। এটা ইকরামা, হাসান বসরী, আতা প্রমূখেরও মত। [দেখুন-ইবন কাসীর, কুরতুবী, বাগভী]

  219. 219

    وَتَقَلُّبَكَ فِى ٱلسَّٰجِدِينَ

    Wa taqallubaka fis saajideen

    এবং সাজদাকারীদের মাঝে আপনার উঠাবসা [১]।

    [১] এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। এক. আপনি যখন জামায়াতের সাথে সালাত পড়ার সময় নিজের মুকতাদীদের সাথে উঠা-বসা ও রুকূ’-সাজদা করেন তখন আল্লাহ্‌ আপনাকে দেখতে থাকেন। দুই. রাতের বেলা উঠে যখন নিজের সাথীরা (যাদের বৈশিষ্ট্যসূচক গুণ হিসেবে “সাজদাকারী” শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে) তাদের আখেরাত গড়ার জন্য কেমন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তা দেখার উদ্দেশ্যে ঘোরাফেরা করতে থাকেন তখন আপনি আল্লাহ্‌র দৃষ্টির আড়ালে থাকেন না। তিন. আপনি নিজের সাজদাকারী সাথীদেরকে সংগে নিয়ে আল্লাহ্‌র বান্দাদের সংশোধন করার জন্য যেসব প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন আল্লাহ্‌ তা অবগত আছেন। চার. সাজদাকারী লোকদের দলে আপনার যাবতীয় তৎপরতা আল্লাহ্‌র নজরে আছে। তিনি জানেন আপনি কিভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, কিভাবে ও কেমন পর্যায়ে তাদের আত্মশুদ্ধি করছেন এবং কিভাবে ভেজাল সোনাকে খাঁটি সোনায় পরিণত করছেন। [দেখুন-তবারী, বাগভী]

  220. 220

    إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ

    Innahoo Huwas Samee'ul 'Aleem

    তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

  221. 221

    هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَىٰ مَن تَنَزَّلُ ٱلشَّيَٰطِينُ

    Hal unabbi'ukum 'alaa man tanazzalush Shayaateen

    তোমাদেরকে কি আমি জানাব কার কাছে শয়তানরা নাযিল হয়?

  222. 222

    تَنَزَّلُ عَلَىٰ كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍۢ

    Tanazzalu 'alaa kulli affaakin aseem

    তারা তো নাযিল হয় প্রত্যেকটি ঘোর মিথ্যাবাদী ও পাপীর কাছে।

  223. 223

    يُلْقُونَ ٱلسَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كَٰذِبُونَ

    Yulqoonas sam'a wa aksaruhum aaziboon

    তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী [১]।

    [১] এর দু’টি অর্থ হতে পারে। একটি হচ্ছে, শয়তানরা কিছু শুনে নিয়ে নিজেদের চেলাদেরকে জানিয়ে দেয় এবং তাতে সামান্যতম সত্যের সাথে বিপুল পরিমাণ মিথ্যার মিশ্রণ ঘটায়। দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, মিথ্যুক-প্রতারক গণকরা শয়তানের কাছ থেকে কিছু শুনে নেয় এবং তারপর তার সাথে নিজের পক্ষ থেকে অনেকটা মিথ্যা মিশিয়ে মানুষের কানে ফুঁকে দিতে থাকে। [দেখুন-ফাতহুল কাদীর] একটি হাদীসে এর আলোচনা এসেছে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, কোনো কোনো লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গণকদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। জবাবে তিনি বলেন, এসব কিছুই নয়। তারা বলে, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! কখনো কখনো তারা তো আবার ঠিক সত্যি কথাই বলে দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বলেন, সত্যি কথাটা কখনো কখনো জিনেরা নিয়ে আসে এবং তাদের বন্ধুদের কানে ফুঁকে দেয় তারপর তারা তার সাথে শত মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়ে একটি কাহিনী তৈরী করে। [বুখারী ৩২১০]

  224. 224

    وَٱلشُّعَرَآءُ يَتَّبِعُهُمُ ٱلْغَاوُۥنَ

    Washshu 'araaa'u yattabi 'uhumul ghaawoon

    আর কবিগণ, তাদের অনুসরণ তো বিভ্ৰান্তরাই করে।

  225. 225

    أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِى كُلِّ وَادٍۢ يَهِيمُونَ

    Alam tara annahum fee kulli waadiny yaheemoon

    আপনি কি দেখেন না যে, ওরা উদভ্ৰান্ত হয়ে প্রত্যেক উপত্যকায় ঘুরে বেড়ায়?

  226. 226

    وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ

    Wa annahum yaqooloona ma laa yaf'aloon

    এবং তারা তো বলে এমন কথা, যা তারা করে না।

  227. 227

    إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَذَكَرُوا۟ ٱللَّهَ كَثِيرًۭا وَٱنتَصَرُوا۟ مِنۢ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا۟ ۗ وَسَيَعْلَمُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓا۟ أَىَّ مُنقَلَبٍۢ يَنقَلِبُونَ

    Illal lazeena aamanoo w a'amilus saalihaati wa zakarul laaha kaseeranw wantasaroo mim ba'di maa zulimoo; wa saya'lamul lazeena zalamooo aiya munqalbiny yanqaliboon

    কিন্তু তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, আল্লাহ্‌কে বেশী পরিমাণ স্মরণ করেছে এবং অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্ৰহণ করেছে। আর যালিমরা শীঘ্রই ফিরে যাবে জানবে কোন ধরনের গন্তব্যস্থলে তারা ফিরে যাবে।

অনুবাদ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া · QuranEnc.com